― Advertisement ―

spot_img

রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় :রাশিয়াও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241509 ক-বিভাগ (ক) কাকে মুক্তিদাতা জার' বলা হয়?উত্তর : দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে । (খ) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ...
Homeরাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসপটসমডাম সম্মেলনের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা কর।

পটসমডাম সম্মেলনের সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা কর।

ভূমিকা : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যে সম্মেলনগুলো মৈত্রী জোট দেশগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় পটসডাম সম্মেলন সে সম্মেলনগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বশেষ সম্মেলন ছিল। আমেরিকার ও সোভিয়েতের মধ্যকার বহুদিনের মতানৈক্য প্রকাশ রূপ লাভ করে এ সম্মেলনের মাধ্যমে আর প্রকাশ্যে চলে আসে বিদ্যমান স্নায়ুযুদ্ধ ও। তবে এ সম্মেলনে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যদিও সম্মেলনে মতবিরোধ বিদ্যমান ছিল।
পটসডাম সম্মেলনের পূর্বে ঘটনাবলি : ইউরোপে এ ব্যাপারে পরিবর্তন সূচিত হয় পটসডাম সম্মেলনের পূর্বে আর সোভিয়েত ইউনিয়নের ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরসহ অন্যান্য মিত্র শক্তি দেশগুলোর মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয় এ পরিবর্তনের সূত্র ধরে। তবে যে ঘটনাগুলো যুদ্ধ পরবর্তী Cold war-কে ত্বরান্বিত করে সেগুলো হলো :

১. সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুমোদিত পোল্যান্ডের সরকার হবে। যার ফলে সমাজতান্ত্রিকদের সরকার সেখানে ক্ষমতায় বসে। তবে মস্কোতে । পুঁজিবাদের বিতাড়ন করা হয় পোল্যান্ড থেকে । পোল্যান্ডের জন্য একটি প্রবাসী সরকার গঠন করা হয় সোভিয়েতের এবং
২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাঙ্গেরি জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করায়, তাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। পশ্চিমা শক্তি ইয়াল্টা সম্মেলনের লঙ্ঘন বলে দাবি করে এটাকে ।
৩. রুমানিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের Red Army বা লালফৌজ বাহিনী প্রবেশ করে ১৯৪৫ সালের মার্চ মাসে এবং সেখানে একটি সরকার গঠন করে সেখান থেকে জার্মান করবে বলে অঙ্গীকার করে ।
৪. জার্মান বাহিনীকে বুলগেরিয়া থেকে বিতাড়িত করে সোভিয়েত ইউনিয়নের বাহিনী। আর সেখানে গঠন করা হয় প্রগতিশীল সরকার এবং রাশিয়াকে সমর্থন করে এই সরকার।
৫. একটি কোয়ালিশন সরকার চেকোশ্লাভিয়াতে গঠিত হয়। সেখানে ক্ষমতায় আসীন করা হয় কমিউনিস্টদের। আর প্রচলন করা হয় একটি প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ।
৬. বহুদিন জার্মান বাহিনীকে প্রতিরোধ করে রেখেছিল যুগোশ্লাভিয়ার মার্শাল টিটো বাহিনী। সেখানে পরবর্তীতে শত্রু-মুক্ত হয় রুশ বাহিনীর সহায়তায়। সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয় টিটোর নেতৃত্বে রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় সহায়তার অঙ্গীকার করে টিটো সরকার ।
৭. কমিউনিস্টদের নিয়ে আলবেনিয়াতেও সরকার গঠন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন।
৮. সোভিয়েত দখল করে নেয় পূর্ব জার্মানি। তারা কমিউনিস্ট সরকার গঠনের চেষ্টা করে সেখানে।
৯. জার্মান থেকে পৃথক করা হয় অস্ট্রিয়াকে। সরকার গঠন করা হয় সেখানে ।

ইয়াল্টা থেকে পটডাম সম্মেলনের মধ্যে ঘটে যায় এই কাজ বা ঘটনাগুলো। ফলশ্রুতিতে দূরত্ব সৃষ্টি হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে। সোভিয়েত ইউনিয়নের কাজকর্মে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা। যার কারণে তাদের মধ্যে এই অসন্তোষের কারণে সিদ্ধান্ত নেয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। পরিশেষে তারা উপনীত হয় আংশিক সিদ্ধান্তে এবং বলা হয় যে, পরবর্তীতে বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া পটসডাম সম্মেলনের সকল সিদ্ধান্তই দ্বিমত ছিল
পটসডাম সম্মেলনের সিদ্ধান্তসমূহ : যে সকল সিদ্ধান্ত পটডাম সম্মেলনে গ্রহণ করা হয় তার বেশিরভাগই দ্বিমত ছিল। এ সম্মেলনে মিত্রশক্তির জোট অনেক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও ঐক্যমত ছিল যে সকল বিষয়ে তা হলো :

১. জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন । গঠন করা হবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ। একটি খসড়া প্রণয়ন করবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ এবং খসড়াগুলো স্বাক্ষরিত হবে পরবর্তী সম্মেলনের মাধ্যমে ।
২. স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হবে জার্মানি জাতির। তবে জার্মানিতে তাদের অতিজাতীয়তাবাদ বা নাৎসিজম, নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের চেতনাবোধ তথা স্কুল কলেজ থেকে নাৎসিবাদের বিষয়বস্তু তুলে নেওয়া হবে ইয়াল্টা সম্মেলন অনুসারে ।
৩. বহু দলের অংশগ্রহণে জার্মানিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতা জাগ্রত করার জন্য । ৪. জার্মানির সামরিক অস্ত্র নির্মাণের কারখানাগুলো ধ্বংস করা হবে।
৫. ভেঙে দেয়া হবে জার্মান সামরিক বাহিনীকে। কোনো ধরনের সমরাস্ত্র তারা তৈরি করতে পারবে না ।
৬. পূর্ব জার্মানির কল-কারখানাগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ে নিতে পারবে যা সোভিয়েত ইউনিয়নের বাহিনী দখল করেছিল।
৭. পোল্যান্ডকে ফিরিয়ে দেয়া হবে যে সকল পোল্যান্ডের অঞ্চল জার্মানি দখল করেছিল ।
৮. ইয়াল্টা সম্মেলন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে পোল্যান্ড জার্মানির সীমানা ।
৯. ৪টি ভাগে ভাগ করা হবে জার্মানিকে। সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণে থাকবে পূর্ব জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বাকি অঞ্চল ।
১০, ৪টি ভাগে বিভক্ত করা হবে বার্লিনকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন পাবে একটি অংশ আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেন ও ফ্রান্স পাবে বাকি অংশ ।
১১. ফ্রান্সকে দেয়া হবে আলসার্স ও লরেন্স ।
১২. চেকোস্লাভাকিয়ার জার্মানির দখল করা অঞ্চল ফিরিয়ে দিতে হবে।
১৩. স্বাধীনতা দেয়া হবে অস্ট্রিয়াকে।
১৪. জার্মানির পক্ষে যুদ্ধ করেছিল ইতালি, ফিনল্যান্ড, রুমানিয়া, বুলগেরিয়া, তারপর ও এসব দেশের শান্তি চুক্তির কথা বলা হয় এ চুক্তিতে।
১৫. মিত্র বাহিনী অপসারণ করা হবে পারস্য তথা ইরান থেকে । সোভিয়েত ইউনিয়ন ওমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে Cold war বা ঠান্ডা যুদ্ধ বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে পটসডাম সম্মেলনের মাধ্যমে এটি অনেকের ধারণা ছিল। যদিও এই সম্মেলনের প্রতিটি মতেরই দ্বিমত ছিল।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, যুদ্ধপরবর্তী সকল কার্যক্রম পটসডাম সম্মেলনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালনা করা হলেও সোভিয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মেলন পরবর্তী ভুল বুঝাবুঝির দরুণ এক অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত হয় যা সবচেয়ে জঘন্য ও বর্বরোচিত’ কাজ হিসেবে ইতিহাসে অভিহিত। আর সেটি হলো জাপানের উপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ। এটি ইতিহাসের অত্যন্ত কলঙ্কজনক ঘটনা ।