― Advertisement ―

spot_img

আধুনিক পশ্চিম এশিয়া (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় : আধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাস (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241507 ক-বিভাগ (ক) UAR এর পূর্ণরূপ কি?উত্তর : UAR এর পূর্ণরূপ হলো- United...
Homeআধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসমিশরের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় আলোচনা কর।

মিশরের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় আলোচনা কর।

ভূমিকা : জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যেকোনো দেশ ও জাতি আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রসূত আন্দোলন। যা জাতীয় রাষ্ট্র গঠনে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মিশরের স্বাধীনতা পূর্বে তা ছিল ইউরোপের শাসনাধীন একটি রাষ্ট্র। ইউরোপীয় আধিপত্য মিশরীয়দের মনে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়।

→ মিশরে জাতীয়বাদী আন্দোলন : জাতীয়তাবাদী শব্দটি Nationalist বা Nation শব্দ থেকে এসেছে। Nation শব্দের অর্থ হলো জাতি। একটি জাতি যখন স্থায়ী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে একতাবদ্ধ হয়ে সেই ঐক্যের জন্য একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস চালায়, তখনই জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মিশরের স্বাধীনতা লাভের পূর্বে ইউরোপীয় পাত্র শাসনাধীনে ছিল। মিশরীয়রা ইউরোপীয়দের শোষণ-বঞ্চনার ভাজ | নাগপাশ থেকে মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে। জ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে জাতীয় রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা এই চালায়, মুখ্যত এটাই মিশরীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। এই নক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলে মিশরীয়রা একসময় স্বাধীনতা ও লাভ করে একটি আধুনিক মিশর রাষ্ট্র গঠনে সফল হয়।

→ মিশরে জাতীয়বাদী আন্দোলনের পর্যায়সমূহ : মিশরের এত জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তিনটি পর্যায়ে সংঘটিত হয়। নিয়ে দ্ধে পর্যায়সমূহ আলোচনা করা হলো :

১. প্রথম পর্যায় : মিশরীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রথম প্ত পর্যায় শুরু হয় আহম্মদ ওয়াবি পাশার নেতৃত্বে। আল আজাহার ণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী ওরাবি পাশা সাধারণ সৈনিক কর্মজীবন শুরু করে স্বল্পসময়ে কর্নেল পদে উন্নীত হন তিনি মিশরীয় সৈন্যবাহিনীতে নিজের প্রতি একান্ত আনুগত নর বেশকিছু সৈন্য নিয়ে গুপ্ত বাহিনী গঠন করেন। ওরাবি ছিলেন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত জাতীয়তাবাদী নেতা। তিনি ১৮৮২ সালে সেনাবাহিনীর সদস্য জাতীয়বাদী ও বুদ্ধিজীবীদের সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ইউরাপীয় আধিপত্যবাদের শ নিরসন করে মিশরীয়দের জন্য মিশর (Egypt for Egyption) এই নীতি ঘোষণা করে বিদ্রোহ শুরু করেন। ১৮৮২ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স মিশরেরখেদিভ তৌফিক পাশাকে যৌথ নোট (Joint Note) প্রেরণ করে তাকে সমর্থন জানায়। ওরাবি ও তাঁর মতাদর্শীগণ এই পদক্ষেপকে মিশরীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাতস্বরূপ মনে করে বিরোধিতা শুরু করে। আন্দোলন সংকটময়কালে ওরাবি পাশা মিশরের সমরমন্ত্রী নিযুক্ত হন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা খদিভের মনমতো না হওয়ার দরুন ওয়াবিপন্থিদের সাথে খেদিভ সরকারের সংকট দেখা দেয়। ইঙ্গ-ফরাসি সরকার খেদিভ়কে সামরিক হস্তক্ষেপ করার প্রস্তাব দেয় এবং মিত্রবাহিনী ভূমধ্যসাগরের সংকট দেখা দেয়। ইঙ্গ-ফরাসি সরকার খোদিতকে সামরিক হস্তক্ষেপ করার প্রস্তাব দেয় এবং মিত্রবাহিনী ভূমধ্যসাগরে নৌবহর প্রেরণ করে। সমরমন্ত্রী হিসেবে ওরাবি পাশা এর বিরোধিতা করেন। ইঙ্গ-ফরাসিরা নৌ অবরোধ করে এবং খেদিভকে মিশরীয় সরকারের পতন ও ওরাবিপন্থিদের বিতাড়িত করার পরামর্শ দেয়; অন্যথায় অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানিয়ে দেয়। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে ওরাবি পাশা আত্মগোপন করেন এবং গোপন ইশতাহারে সেনাবাহিনী ও দেশবাসীকে বিদেশি শক্তির আগ্রাসন এবং খেদিভের বিশ্বাসঘাতকতার কথা প্রচার করে। ওরাবি পাশা খেদিভ তৌফিককে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। কিন্তু ব্রিটিশ নৌবহর ও সেনাবাহিনীর যৌথ আক্রমণে ওরাবি পাশা সংকটাপন্ন হয়ে একটি ডিক্রি জারি করে সমগ্র দেশপ্রেমিক মিশরীয়দের বিদেশি আগ্রাসন প্রতিরোধ করার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগদানের নির্দেশ দেন। কিন্তু শেষাব্ধি যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে সিংহলে নির্বাসিত হন ওরাবি পাশা। ওরাবি পাশার পতনের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্যায়ের মিশরীয় . জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

২. দ্বিতীয় পর্যায় : ১৮৯২ সালে খেদিভ তৌফিক পাশাার মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দ্বিতীয় আব্বাস হিলমি (১৮৯২-১৯১৪) খেদিভ নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন নাবালক এবং প্রশাসনে অনভিজ্ঞ । তিনি ছিলেন আইনজ্ঞ এবং প্যারিসে আইনশাস্ত্র নিয়ে অধ্যয়ন। সংবাদপত্রের মাধ্যমে মিশরে ব্রিটিশ আধিপত্যের দাবি করে। ১৮৯৫ সালে মোস্তফা কামাল “হিযাবুল ওয়াতান’ নামে একটি জাতীয় দল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৬ সালে তিনি সংবাদপত্র ও স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর জাতীয়তাবাদী মূলমন্ত্র প্রচারসহকর্মী ফরিদ করতে থাকেন।

৩. তৃতীয় পর্যায় : মিশরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তৃতীয়বারের মতো শুরু হয়, যখন মিশরে ব্রিটিশ আধিপত্য সুদৃঢ় হয়ে উঠে। এ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেন দুইজন কৃতী সন্তান শেখ মোহাম্মদ আবদুহু এবং সাদ জগলুল ।
মোহাম্মদ অবদুহু ওরাবি পাশার সহচর ছিলেন। তিনিও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর প্রতিষ্টিত ‘হিযারল উম্মা’ দল দিয়ে তার মতবাদ প্রচার করেন। – তিনি তাঁর লিখনিতে কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি দূরীকরণ করে ধর্মীয় সংস্কারের আভাস যোগিয়ে মিশরীয় জনগণকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান । ১৮৯৯-১৯০৫ সাল পর্যন্ত তিনি গ্রান্ড মুফতির পদ অলঙ্কৃত করেন।তবে মিশরীয় জাতীয়বাদী আন্দোলন যথার্থতা লাভ করে সাদ জগলুল পাশার নেতৃত্বে। বিশ্ব ইসলামবাদী সৈয়দ জামালউদ্দীন আফগানীর কৃতী ছাত্র আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি অর্জনকারী জগলুল পাশা কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করেন। মিশরে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। তিনি প্রতিনিধি দল নিয়ে মিশরের হাইকমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ করে লন্ডনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন এবং বিশেষত প্যারিস শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন । কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যাত হন এবং তিনি প্রতিনিধি দলের ১২ জন | সদস্য নিয়ে ‘ওফাফদ পাটি’ নামে একটি দল ১৯১৯ সালে গঠন। করেন। এই দল ছিল জনগণের স্বার্থের পক্ষের দল এবং দ্রুতই । জনপ্রিয়তা অর্জন করে। জগলুল পাশা ওয়াফদ পার্টির নেতৃত্বে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে আহ্বান করেন। জনগণ গ্রেফতার করে তাঁর সহকর্মীসহ মাল্টায় প্রেরণ করা হয়। কিন্তু উদ্বুদ্ধ হয় সেই আন্দোলনে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার জগলুলকে । এর প্রতিবাদে মিশরে গণআন্দোলন শুরু হয়। ১৯২৩ সালে মে মাসে মিশরে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নতুন সংবিধান। ঘোষিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করেন। ক্ষমতা গ্রহণ করেই ) মিশরকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেন। ১৯২৬ সালে শ জগলুল পাশা মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু তিনি বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন নি। কারণ বার্ধক্যজনিত কারণে । ১৯২৭ সালের আগস্টে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পরও Y ওয়াফদ পার্টির নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চলে। ১৯৩৬ সালে স্বাধীনতা চুক্তি সম্পাদন এবং ১৯৫০-এর দশকে নাহাস পাশা ওয়াদফ পার্টির নেতৃত্বে যে বলিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়েছেন তা জগলুল পাশারই অবদান।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মিশরের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অনেকের অবদান রয়েছে। তবে সাদ জগলুল পাশার অবদান ছিল অপরিসীম। তার ওয়াফদ পার্টি পরবর্তীতে মিশরের স্বাধীনতা অর্জনের পথ প্রশস্ত করে। তাদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে সাদ জগলুল পাশার অবদান অনস্বীকার্য। অন্যান্য রাজনীতিবিদরা যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু করে সাদ জগলুল পাশা তাকে আরো গতিশীল করে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ।