― Advertisement ―

spot_img

১৯৪৭ সালে ভারত কেন বিভক্ত হয়েছিল? এই বিভক্তি কি অপরিহার্য ছিল?

অথবা, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। ভূমিকা : পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো শাসনই চিরস্থায়ী নয়। যার শুরু আছে তার শেষও আছে। তবে কারো কারো...
Homeদক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস১৯৩৭ সালের নির্বাচনের বিবরণ দাও।

১৯৩৭ সালের নির্বাচনের বিবরণ দাও।

অথবা, ১৯৩৭ সালের নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।

ভূমিকা : অবিভক্ত বাংলার ইতিহাসে যেসব মহান মুসলিম রাজনৈতিক নেতার আবির্ভাব হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে একে ফজরুল হক অন্যতম। তিনি বাংলার সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টি ছাড়া আরো দুটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছিল। একে ফজলুল হকের কৃষক প্রজাপার্টি সাধারণ মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। কারণ তিনি কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ।

১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন : ১৯৩৭ সালের বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষক প্রজা পার্টির প্রধান হিসেবে একে ফজলুল হক এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন । কৃষক প্রজা পার্টি ১৪ দফা কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন । তিনি জমিদার ও প্রজাদের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা করে এই ইশতেহার তৈরি করেছিলেন। তার ইশতেহারের প্রধান বিষয় ছিল বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ। খাজনার হার কমানো, নগর ও সেলামী রহিতকরণ, ঋণ সালিসি বোর্ড গঠন, বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি। কৃষক প্রজাপার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্লোগান ছিল লাঙল যার জমি তার। ১৯৩৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের ১১টি প্রদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সেরে বাংলার নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস আর ও কিছু দল নির্চনে অংশ নেয়। ১১৯টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৩৮টি কৃষকপ্রজা পার্টি। মুসলিম লীগ পায় ৪০টি এবং অন্যান্য স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী পায় ৪১টি আসন। অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ৬০টি আসন লাভ করে এবং বাকী আসন অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা লাভ করেন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কোন দল সকংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে কেউ এককভাবে সরকার গঠন করতে পারে না। এজন্য গভর্নর কর্তৃক সরকার গঠনের আহ্বান করা হয়েছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগ মিলে কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন। এটাই প্রথম ফজলুল হক মন্ত্রিসভা সাথে পরিচিত ফজলুল হক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল ১১ জন। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া ৫ জন মুসলমান ও ৫ জন হিন্দু মন্ত্রী ছিল। এই মন্ত্রিসভা বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইন বাতিল, কৃষকদের স্বার্থে আইন প্রণয়ন, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশ করে। যার ফলে কৃষকের ভাগের পরিবর্তন ও কৃষির ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয় ।

১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব : ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব নিম্নে তুলে ধরা হলো :

১. জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটদানের অধিকার লাভ : ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জনগণ প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটদানের অধিকার লাভ করেন। এর পূর্বে কখনো এভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটদানের অধিকার লাভ করার জন্য ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব অত্যাধিক।

২. কৃষক প্রজা পার্টির জনপ্রিয়তা : ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। কারণ সাধারণ জনগণ একে ফজলুল হককে খুব পছন্দ করতেন। এ পার্টির উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। কৃষক প্রজা পার্টির অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে অনেক হিন্দু নেতা ও তার দলকে সমর্থন করেছিল।

৩. নতুন নতুন রাজনৈতিক আদর্শ : ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল তারা নতুন নতুন রাজনৈতিক আদর্শ জনগণের কাছে প্রকাশ করেছিল। যা তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব বিষয় আলোচনা ক হয়েছিল তা প্রকৃতপক্ষে অনেক অর্থবহ ছিল ।

৪. হিন্দু মুসলিম ঐক্য : ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ এই নির্বাচনের পরে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছিল তাতে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া ১০ জনের মধ্যে ৫ জন হিন্দু মন্ত্রিসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এতে করে হিন্দু মুসলিম ঐক্যের অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছিল । এদিক থেকে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অধিক

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এ নির্বাচনে শেরে বাংলার কৃষক প্রজাপার্টি ও মুসলিম লীগের সাথে কোরালিশন সরকার গঠন করা হয়েছিল। একে ফজলুল হক অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করছিল। কিন্তু মুসলিম লীগের প্রধান মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহর সাথে ফজলুল হকের কিছু মতবিরোধ সৃষ্টি হলে কোয়ালিশন সরকার ভেঙ্গে যায় ৷