― Advertisement ―

spot_img

১৮৯২ সালে কাউন্সিল আইনের ধারাসমূহ উল্লেখ কর।

ভূমিকা : ১৮৯২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনের দ্বারা জাতীয়দের দাবিদাওয়ার একটা বিশেষ দিক বাস্তবায়নের অগ্রগতি সাধন হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের ধারায় ১৮৯২ সালের...
Homeঔপনিবেশিক শাসক১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের আওতায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।

অথবা, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে কতখানি প্রাদেশিক শায়ত্ব শাসন প্রদান করা হয়েছিল ?

ভূমিকা : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন দ্বারা ব্রিটিশ ভারতে যুক্তরাষ্টীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্টীয় ব্যবস্থা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনকে উদ্দেশ্য করে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের উপর শাসন সংক্রান্ত বিষয়সমূহ অর্পণ করা হয়। প্রদেশে দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বাতিল করে গভর্নর ও মন্ত্রিসভার উপর প্রদেশের শাসনভার দেয়া হয়। প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে প্রাদেশিক আইনসভার নিকট দায়ী করা হয়।

→ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন । প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনকে একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তবে সাধারণত প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন বলতে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে প্রদেশগুলো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে স্বতন্ত্রভাবে আইন প্রণয়ন ও শাসন কার্য পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বুঝায় । অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণযুক্ত হয়ে প্রদেশের সরকার স্বতন্ত্রভাবে আইন প্রণয়ন ও শাসনকার্য পরিচালনা করবে। আইন পরিষদের নিকট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা দায়ী থাকবে এবং আইনসভা প্রাদেশিক গভর্নরের কর্তৃত্বযুক্ত থাকবে। এছাড়া প্রাদেশিক গভর্নর শুধু নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হবেন। Nc. Roy এর মতে, Provincial Autonomy was regarded as the cornerstone of the new constitution of India. I

→ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রকৃতি ও কার্যকারিতা : ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন শুরুর কিছুদিন পর থেকে ভারতীয়রা প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে আন্দোলন করতে থাকে। এ স্বায়ত্ত্বশাসনকে বাস্তবিক রূপ দেয়ার জন্য মন্টেগু চেমসফোর্ট তাদের রিপোর্টে অভিমত ব্যক্ত করেন। পরে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে আংশিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়। যদিও তা বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়নি। পরে ১৯৩০ সালে সাইমন কমিশনের রিপোর্টে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের সুপারিশ করা হলে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক বিষয় সুস্পষ্টভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। পরে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে কেন্দ্ৰীয় বিষয়সমূহ হতে আলাদা করে দেয়া হয়। এছাড়া প্রাদেশিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, ভারত সচিব ও ভারত  সরকারের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করা হয়। গভর্নর শাসিত প্রদেশে দ্বৈত শাসন রহিত হয়। প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে প্রাদেশিক আইনসভার কাছে দায়িত্বশীল হওয়ার বিধান দেয়া হয়। ফলে তত্ত্বগত ধারণায় ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল তা বলা যায়।

তবে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন স্বীকার করে নেয়া হলেও নিম্নলিখিত কারণে তা কার্যকরী হয়নি যথা— ১. প্রাদেশিক গভর্নর নিয়মতান্ত্রিক প্রধান ছিলেন না : সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থায় প্রাদেশিক গভর্নর নিয়মতান্ত্রিক শাসকে পরিণত হন। প্রকৃতক্ষমতা ন্যস্ত থাকে নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের হাতে। কিন্তু ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক নিয়মতান্ত্রিক প্রধান ছিলেন না। গভর্নরগণ ছিলেন প্রকৃত শাসন। তাদের ক্ষমতা ছিল অসীম এবং অনিয়ন্ত্রিত। গভর্নরগণ যে কোনো সময় প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত আগ্রাহ্য করতে পারতেন।

২. গভর্নরের নিয়োগ পদ্ধতি : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন · আইনানুযায়ী গভর্নরগণ ছিলেন ব্রিটিশ রাজের প্রতিনিধি। তাঁরা ব্রিটিশ রাজ কর্তৃক মনোনীত ও নিযুক্ত হতেন এবং শাসন ক্ষমতা সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ । লাভ করতেন। এরূপ নিয়োগ পদ্ধতি ছিল স্বায়ত্তশাসন নীতির

৩. গভর্নরের সীমাহীন ক্ষমতা : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনানুযায়ী প্রাদেশিক গভর্নরের হাতে প্রভূত পরিমাণ ক্ষমতা দেয়া হয় । যথা-

(ক) আইন সভার উপর নিয়ন্ত্রণ : এ আইন অনুসারে প্রাদেশিক গভর্নর তার সেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে আইন পরিষদের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিতে পারতেন। আইনসভা প্রণীত বিল গভর্নরের কাছে প্রেরিত হলে তিনি এতে ভেটো প্রয়োগ করতে পারতেন। অথবা বিলটি গভর্নর জেনারেলের বিবেচনার জন্য সংরক্ষিত রাখতে পারতেন। গভর্নর প্রাদেশিক আইনসভার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গভর্নরের আইন ও অধ্যাদেশ জারি করতে পারতেন ৷

(খ) আইনসভার আর্থিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশে প্রাদেশিক সরকারের আয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে গভর্নরগণ আইনসভার উপর প্রাধান্য সৃষ্টি করতে পারতেন। প্রাদেশিক আইনসভা কর্তৃক বাতিলকৃত কোনো ব্যয় বরাদ্দপূর্ণ বহাল করার ক্ষমতা গভর্নরদের প্রদান করা হয়েছিল

(গ) মন্ত্রিসভার উপর গভর্নরের নিয়ন্ত্রণ : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতিনীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার হাতেই প্রকৃত শাসনক্ষমতা ন্যস্ত হওয়া উচিত ছিল কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গভর্নর মন্ত্রীদের সাথে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। বিশেষ দায়িত্ব পালনের অজুহাতে গভর্নর মন্ত্রিসভার কোনো পরামর্শ উপেক্ষা করতে পারতেন। অথচ মন্ত্রীসভাকে গভর্নর ও আইনসভা উভয়ের কাছে দায়ী থাকতে হতো। এমনকি গভর্নর মন্ত্রীসভাকে ভেঙ্গেও দিতে পারতেন ।

৪. গভর্নর জেনারেলের অপ্রতিহত ক্ষমতা : গভর্নরের ক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও অন্যান্য দিক ছিল । যথা-

(ক) গভর্নর জেনারেল কর্তৃক গভর্নরদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ : যে সমস্ত ক্ষেত্রে গভর্নরগণ স্বীয় বিচারবুদ্ধি বলে বিশেষ দায়িত্ব পালন করতেন এবং স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে মন্ত্রীদের সাথে পরামর্শ না করে কাজ করতেন। সেসব ক্ষেত্রে গভর্নরগণ সরাসরি গভর্নর জেনারেলের নিয়ন্ত্রাণাধীন থেকে কাজ করতে বাধ্য ছিলেন।

(খ) গভর্নরদের উপর গভর্নর জেনারেলের নির্দেশ : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ১২৬ ধারায় বলা হয় যে, ভারতবর্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্য গভর্নর জেনারেল গভর্নরদের কাছে নির্দেশ পাঠাতে পারবেন। গভর্নরদের জন্য এসব নির্দেশ পালন করা বাধ্যতামূলক ছিল। এর ফলে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের অজুহাতে গভর্নর জেনারেল প্রাদেশিক শাসনকার্যে যে কোনো মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করতে পারতেন ।

(গ) গভর্নর জেনারেল কর্তৃক জরুরি অবস্থা ঘোষণা : গভর্নর জেনারেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে কেন্দ্ৰীয় আইনসভা প্রাদেশিক বিষয়েও আইন প্রণয়ন করতে পারত। শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টির অজুহাতে গভর্নর জেনারেল প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা ও আইনসভা ভেঙে দিয়ে প্রদেশের শাসনক্ষমতা স্বহস্তে গ্রহণ করতে পারতেন।

(ঘ) গভর্নর জেনারেলের উপদেশাবলি : গভর্নর তার ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গভর্নর জেনারেলের কাছ থেকে উপদেশাবলি পেতেন। এসব উপদেশাবলিকে গভর্নর আদেশের মতই মান্য করতেন ।

 ৫. প্রাদেশিক আইনসভার সীমাবদ্ধতা : আইনসভা সব বিষয়ে আইন করতে পারত না। যেমন ব্রিটিশ জনগণের বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রতি হুমকি বা বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে এরূপ বিষয়সহ আরও কতিপয় বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রাদেশিক আইনসভার এখতিয়ার বহির্ভূত রাখা হয় ।

৬. যুগ্ম তালিকার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের প্রাধান্য : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়গুলোর উপর আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশের উপর অর্পণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়ের উপর প্রাদেশিক সরকারের কোনো ক্ষমতা ছিল না বললেই চলে। কেননা, যুগ্ম তালিকাভুক্ত বিষয়ে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে মতানৈক্য ঘটলে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন বা অভিমতই বলবৎ থাকত ।

৭. প্রাদেশিক বিষয়ে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ : এ আইনে বলা হয় যে, ব্রিটিশ সরকার নির্দেশনামা জারির মাধ্যমে ভারতবর্ষের যে কোনো প্রাদেশিক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন, যা ছিল স্বায়ত্ত্বশাসন ব্যবস্থার পরিপন্থি।

৮. প্রাদেশিক সরকারের সীমিত প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা : | প্রাদেশিক প্রশাসনে নিযুক্ত আই.সি.এস. আ.পি.এস প্রভৃতি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ ভারত সচিব নামক ব্রিটিশ মন্ত্রী কর্তৃক | নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। ভারত সচিব তাদের চাকরির শর্তাদিও নির্ধারণ করতেন। এসব উচ্চপদস্থ কর্মচারীগণ ভারত সচিব, ninety গভর্নর জেনারেল ও গভর্নরদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ভারত হতেন এবং তাদের নির্দেশ মেনে চলতেন। অথচ প্রাদেশিক সালের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব ছিল মন্ত্রিসভার উপর। অধিকাংশ তাবে ক্ষেত্রেই এসব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার ত্রুটি সিদ্ধান্ত ও আদেশ নির্দেশের প্রতি ইচ্ছাকৃত উদাসীনতা বা দায়িত্ব অবহেলা প্রদর্শন করতেন।

৯. গভর্নরের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগ : | উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা সীমাহীন অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিল। বিশেষ করে পুলিশ শাসন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সংগঠন ও প্রদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার | ভারত বিষয়ে মন্ত্রিসভার পরিবর্তে গভর্নরের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি হওয়ায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূলনীতির বিনষ্ট হয়েছিল ।

এছাড়াও প্রদেশে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার পথে আরও মান কতিপয় বাধা ছিল, যথা- কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে | উদে বিরোধ। কারণ দেখা যায়, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ | অনে পরাজিত হলে প্রাদেশিক আইনসভাগুলোতে মুসলিম লীগ | স্বায় নানাভাবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভার বিরোধিতা করতে থাকেন। তাদের অভিযোগ কংগ্রেস মন্ত্রিসভা মুসলমানদের নিরাপত্তা রক্ষার পরিবর্তে হিন্দুদের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যস্ত। এসব কারণে প্রাদেশিক সরকারগুলো যথাযথভাবে কাজ কাজ করতে পারেননি এবং প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা কার্যকর হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারতীয় জনগণের সম্মতি না নিয়ে সরকারের যুদ্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রদেশের কংগ্রেস মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করেন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কংগ্রেস শাসনের অবমানান্তে মুক্তি দিবস পালন করেন। এভাবে প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রাদেশিক স্বাতন্ত্র্যের যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল তার অবসান ঘটে।

সমালোচনা : ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রয়োগের কথা ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হলেও বাস্তবক্ষেত্রে তা প্রয়োগ না করায় এতে পূর্ণ বা প্রকৃত শাসন এর নামগন্ধ ছিল না। তাই দেখা যায়, প্রাদেশিক গভর্নর ও গভর্নর জেনারেলের ন্যায় প্রভাবশালী কর্তার কর্তৃত্বের মুখে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অর্থহীন | হয়ে পড়ে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু ১৯৩৫ সালের এ আইনকে দাসত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে মন্তব্য করেন। যদিও। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তিত হয়, তথাপিও বাস্তবে তা ছিল অসম্পূর্ণ ও অর্থহীন এবং হাস্যকর স্বায়ত্তশাসন। IC.S এবং I.P.S কর্মচারী সুবিধা অধিকারের। মুখেও গভর্নরের বিশেষ দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতে এটা অবাস্তব | হয়ে পড়ে। অনেকের মতে, এটা ছিল প্রহসন, বাস্তবতা বিবর্জিত । এবং চতুরতাপূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, It was two percent of autonomy and ninety eight percent of safe guarcis. এছাড়া তৎকালীন ভারত সচিব লর্ড জেটল্যান্ড নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ১৯৩৫ সালের আইনে প্রদেশসমূহে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্ত্বশাসন প্রবর্তিত হয়নি। তাবে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের আইনে অনেক অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি থাকলেও ভারতের প্রদেশগুলোতে সীমাবদ্ধ আকারে হলেও দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। আর এ অভিজ্ঞতা ভারতবাসীর জন্য কাজে দিয়েছিল। এ শিক্ষা থেকে ভারতীয়রা পরে অগ্রসর হন ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে যে প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের কথা বলা হয় তা ছিল ভারতবাসীর জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় । কিন্তু এ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বাস্তবায়িত না হওয়ার জন্য যেমন ব্রিটিশ সরকার চাতুরতা দায়ী ছিল অনুরূপভাবে এদেশীয় জনসাধারণের মানসিকতাও দায়ী ছিল। ফলে দেখা যায়, ব্রিটিশ সরকারের যে উদ্যোগ তা ব্যর্থ হয় । তবে বলা যায় যে, এতে ভারতবাসীর জন্য অনেকটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। তাই এ প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের মূল্য ভারত ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ।