― Advertisement ―

spot_img

১৯৪৭ সালে ভারত কেন বিভক্ত হয়েছিল? এই বিভক্তি কি অপরিহার্য ছিল?

অথবা, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। ভূমিকা : পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো শাসনই চিরস্থায়ী নয়। যার শুরু আছে তার শেষও আছে। তবে কারো কারো...
Homeদক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসমর্লি-মিন্টো সংস্কারের কারণ কী ছিল?

মর্লি-মিন্টো সংস্কারের কারণ কী ছিল?

ভূমিকা : ১৯০৯ সালে লর্ড মিন্টোর সহযোগিতায় লর্ড মলি যে সংস্কারমূলক আইন প্রবর্তন করেন তাই ইতিহাসে | মর্লি মিন্টো সংস্কার আইন নামে পরিচিত। এ সংস্কার আইন ছিল পূর্ববর্তী আইনের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।

→ ১৯০৯ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন প্রবর্তনের কারণ : ১৯০৯ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন প্রবর্তনের কারণ নিম্নরূপ :

১. ১৮৯২ সালের আইনের ব্যর্থতা : ১৯০৯ সালের সংস্কার আইন প্রবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পূর্ববর্তী ১৮৯২ সালের সংস্কার আইনের ব্যর্থতা। এ আইনে বিভিন্ন প্রাদেশিক আইনসভায় স্থানীয় সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো বিধান রাখা হয়নি। আইন পরিষদে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ আইনটি ভারতীয়দের দাবিদাওয়া পূরণে ব্যর্থ হয় ।

২. মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি : বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন চলাকালে বাংলার মুসলিম নেতৃবৃন্দ লর্ড মিন্টোর কাছে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর দাবি জানান। লর্ড মিন্টোর মধ্যে অবশ্য ইতোমধ্যে ভারতে এক নতুন সংস্কার আইন ঘোষণা করতে মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু সংস্কারে মুসলমানদের জন্য পৃথক কোনো নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

৩. জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন : ১৮৯২ সালের আইনে কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রতিবাদে ভারতবাসী আন্দোলন শুরু করে। ১৮৯৯ সালে কংগ্রেস সভাপতি রমেশচন্দ্র দত্ত লক্ষ্মৌ অধিবেশনে বঙ্গীয় আইনসভায় প্রত্যেক জেলা থেকে একজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকার দাবি জানান। বাংলার মতোই অন্যান্য রাজ্যেও প্রতিনিধিত্বশীল আইনসভায় দাবি জানানো হয় । ক্রমে ক্রমে তাদের এ আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে।

৪. ১৯০৯ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাস : উপরিউক্ত সুপারিশমালার প্রেক্ষিতে লর্ড মর্লি ১৯০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারতীয় কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার একটি রূপরেখা পেশ করেন। এ রূপরেখায় আইনসভার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং অর্থ সংক্রান্ত বিলের উপর নিষেধাজ্ঞা রহিত করার সুপারিশ করা হয়। সকল প্রস্তাব বিবেচনা করে ১৯০৯ সালের ২৫ মে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি সংস্কার আইন পাশ হয় ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মর্লি মিন্টো সংস্কার সংবিধানের বিকাশ হলেও তা ভারতীয়দের দাবিদাওয়া পূরণে ব্যর্থ হয়। আইনে ভারতীয়দের স্বশাসন প্রদান করা হয়নি। অতএব বলতে পারি যে উপরিউক্ত পৃথক প্রতিনিধিত্ব মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে