― Advertisement ―

spot_img

১৯৪৭ সালে ভারত কেন বিভক্ত হয়েছিল? এই বিভক্তি কি অপরিহার্য ছিল?

অথবা, ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তির প্রেক্ষাপট আলোচনা কর। ভূমিকা : পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো শাসনই চিরস্থায়ী নয়। যার শুরু আছে তার শেষও আছে। তবে কারো কারো...
Homeদক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসভাইসরয় হিসেবে লর্ড রিপনের শাসনামলের মূল্যায়ন কর।

ভাইসরয় হিসেবে লর্ড রিপনের শাসনামলের মূল্যায়ন কর।

অথবা, ভাইসরয় হিসেবে লর্ড রিপনের শাসনামলের পর্যালোচনা কর।

ভূমিকা : ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের ইতিহাসে লর্ড হার | রিপন একটি উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি হণ | যখন ভারতের ভাইসরয় নিপুক্ত হয়ে আসেন তখন শাসনকার্যে টশ ভারতীয়দের অংশগ্রহণ ছিলনা। এজন্য লর্ড রিপন ভারতবাসীর

রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বপ্রথম গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। ও তিনি ভারতের জনগণকে স্থানীয় আসন গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ না প্রদান করেন। তিনি ভারতবাসীর কল্যাণের জন্য প্রশাসনিক। এত আইন, অর্থনৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার াভ সাধন করেছিলেন। তিনি একজন উদারনৈতিক শাসন ছিলেন। । তার উদারনৈতিক সংস্কারের জন্য ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ণে তিনি অমর হয়ে আছেন।

ভাইসরয় হিসেবে লর্ড রিপনের শাসনকাল : লর্ড রিপন ধ্য ১৮৮০ সালে ভাইসরয় নিযুক্ত হয়ে ভারতে আসেন। তিনি লর্ড ার লিটনের স্থলভিষিক্ত হন। লর্ড রিপনের সময় গাডস্টোন ইংল্যান্ডের

প্রধানমন্ত্রী ছিলেন । তিনি এ সময়ে তার উদারনৈতিক দলের সদস্য র ছিলেন। তিনি একজন উদার প্রকৃতির শাসক ছিলেন। তার র শাসনকাল ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের

জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি ভারত বাসীর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতি ন্তু শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি ভারতবাসীকে স্বায়ত্ত্বশাসনে উৎসাহ ন দিয়েছিলেন । লর্ড রিপন ভাইসরয় নিযুক্ত হয়ে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম তার শাসনকালকে অমর করে রেখেছেন ।

→ লর্ড রিপনের সংস্কারসমূহ : লর্ড রিপনের শাসনামলে যেসব সংস্কার সাধিত হয়েছিল নিম্নে তা তুলে ধরা হলো :

১. শুল্ক সংস্কার : লর্ড রিপনের সংস্কারগুলোর প্রধান হলো শুল্ক সংস্কার। তিনি ভারতে এসে দেখতে পান ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো আছে। যার জন্য তিনি ভারতবাসীর জন্য কিছু নিয়মকানুন তৈরি করেন লর্ড রিপন লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের উপর বাণিজ্য শুল্ক বাতিল করেন।

২. রাজস্ব সংস্কার : লর্ড রিপনের আরেকটি অন্যতম সংস্কার – হলো রাজস্ব সংস্কার। তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে রাজস্ব সংস্কার সাধন করেন। তিনি লর্ড নর্থব্রুক ও লর্ড লিটনের অবাধ | বাণিজ্যনীতির সম্পূর্ণতা সাধন করেন। তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত | বাতিল করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ভারত সচিবের বিরোধিতার কারণে তা ব্যর্থ হয়েছিল ।

৩. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা : লর্ড রিপন সংবাদপত্রের ব স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করেন। তার পূর্বে লর্ড | লিটন ভারতের ভাইসরয় ছিলেন। তিনি ভারতবাসীর সংবাদপত্রের

স্বাধীনতা কেড়ে নেয়।

৪. শিক্ষা সংস্কার : লর্ড রিপন ভারতবাসীকে আধুনিক কল্যাণসাধনে শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। যার জন্য তিনি ১৮৮২ কাজের জন্য সালে ভারতবাসীর শিক্ষার উন্নতির জন্য হাটার কমিশন গঠন করেন। এই কমিটির সুপারিশ করে স্থানীয় লোকাল বোর্ড | মিউনিসিপ্যাল বোর্ড ড. কর্পোরেশনের হাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রাদেশিক সরকারের রাজস্বের একাংশ প্রদান করা। । এই কমিটির অধিকাংশ শর্ত ব্রিটিশ সরকার মেনে নিয়েছিল ।

৫. সামাজিক সংস্কার : লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হলো সামাজিক সংস্কার। তিনি জমিদারদের অন্যায় প্রথা রুদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। এজন্য তিনি একটি প্রজাস্বত্ব আইনের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। এই পরিকল্পনা পরে গভর্নর জেনারেল কর্তৃক আইনে পরিণত হয়। তিনি ১৮৮১ সালে সর্বপ্রথম লোক বিশ্বাসী গণনার ব্যবস্থা করেছিলেন।

৬. বিচারব্যবস্থার বৈষম্যদূর : লর্ড রিপন বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন বৈষম্য দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ১৮৮৩ সালে ইলবাট ভারবে বিল নামে একটি আইন প্রণয়ন করেন। এই আইনের পূর্বে কোনো ভারতীয় বিচারক ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করতে পারতো না। তাদের সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাই তিনি বিচারব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করার জন্য আইনের খসড়া প্রণয়ন করে। ইউরোপীয়রা এ বিরোধিতা করলে এই আইনের সংশোধন করেন। এতে বলা হয় ভারতীয় বিচারক ইউরোপীয় জুড়ির সাহায্যে নিয়ে ইউরোপীয় অপরাধীর বিচার করবে।

৭. আশ্রিত রাজ্যের প্রতি আচরণ : মহীশূর রাজ্যের শাসনভার কোম্পানির হাতে ন্যস্ত করা হয় লর্ড বেন্টিংকের শাসনামলে। কেননা শাসনব্যবস্থার অব্যবস্থার অজুহাত এখানে দেখানো হয়। লর্ড রিপন ভারতে ভাইসরয় হিসেবে এসে আশ্রিত রাজ্যের প্রতি ন্যায়সঙ্গত জা আচারণ করেন। কোম্পানির নিকট থেকে মহীশূর রাজ্যের শাসনভার রিপন রাজবংশের উত্তরাধিকারের নিকট ফিরিয়ে দেন।

৮. কারখানা আইন : ১৮৮১ সালে লর্ড রিপন ফ্যাক্টরি বা কারখানা আইন পাশ করান। এতে করে শ্রমজীবীদের সুবিধা হয়। শিশু শ্রমিকদের জন্য তিনি নয় ঘণ্টা কাজের নিয়ম করেন। এই আইনে বাধ্যতামূলক করা হয় বিপদজনক যন্ত্রপাতি ডেকে রাখার জন্য। এছাড়া কারখানা আইনে এক শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। যাদের দায়িত্ব হচ্ছে কারখানা আইন ঠিকমতো পালিত হচ্ছে কিনা তা দেখাশোনা করা ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনামলে লর্ড রিপন এদেশের মানুষের আশীর্বাদ হয়ে এসেছেন । তিনি ভারতের জনগণের মনোভাব বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন। এজন্য তিনি জনগণের কাছে প্রশংসা লাভ করেন। তিনি মাত্র ৪ বছর শাসন করেন। তিনি এই অল্প সময়ের মধ্যে ভারতবাসীর কল্যাণসাধনে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ করেন। তার সংস্কারমূলক কাজের জন্য লর্ড রিপন ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে ।