― Advertisement ―

spot_img

১৮৯২ সালে কাউন্সিল আইনের ধারাসমূহ উল্লেখ কর।

ভূমিকা : ১৮৯২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনের দ্বারা জাতীয়দের দাবিদাওয়ার একটা বিশেষ দিক বাস্তবায়নের অগ্রগতি সাধন হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের ধারায় ১৮৯২ সালের...
Homeঔপনিবেশিক শাসকদেওয়ানীর গুরুত্ব লিখ।

দেওয়ানীর গুরুত্ব লিখ।

অথবা, ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি  লাভের গুরুত্ব সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।

ভূমিকা : বাংলা তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে ইস্ট ইন্ডিয়া . কোম্পানির দেওয়ানি লাভ একটি স্মরণীয় ঘটনা। দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে কোম্পানি এদেশে ব্যবসা বাণিজ্য করার সুযোগ লাভ করে।। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ শক্তির পরিচয় দেন এবং ১৭৬৫ সালে বাংলা, বিহার এর দেওয়ানি লাভ করে।

→ দেওয়ানি লাভের গুরুত্ব : বাংলার ইতিহাসে তো বটেই, এমনকি ভারতবর্ষের ইতিহাসেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনির দেওয়ানি লাভ একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। দেওয়ানি লাভের ফলে ইংরেজদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিপত্তি দিন দিন বৃদ্ধি পায় এবং উপমহাদেশে কোম্পানির রাজ্য বিস্তার সহজ হয়। ভারতে কোম্পানির দেওয়ানি লাভের গুরুত্বকে নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যায় :

১. কোম্পানি রাজস্ব আদায়কারী হিসেবে মর্যাদা লাভ : পূর্বে কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান। অন্য কোনো বিষয়ে এর সম্পৃক্ততা ছিল না। কিন্তু দেওয়ানি লাভ করার পর কোম্পানি এখান হতে রাজস্ব আদায়কারীর মর্যাদা লাভ করেছিল ।

২. কোম্পানির বিচার ক্ষমতা : কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করার  ফলে দেওয়ানি কর্তব্য কার্যের মধ্যে রাজস্ব আদায় ছাড়াও দেওয়ানি মামলার বিচারের দায়িত্ব ছিল বলে কোম্পানি সারা বাংলার বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এতে কোন বাধা ছিল না।

৩. হস্তপুত্তলিকা মাত্র নবাব : দেওয়ানি লাভের পর বাংলার নবাব এখন কোম্পানির হস্তপুত্তলিকা মাত্র। কারণ নবাবের নিজস্ব কোন সৈন্য নেই । কোম্পানি নবাবের শাসন পরিচালনার জন্য যে পরিমাণ অর্থ দেবে এর অতিরিক্ত কোনো আয়ের উৎস ছিল না ।

৪. কোম্পানির আর্থিক সমস্যার সমাধান : দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে বাংলার রাজস্বের উপর কোম্পানি ভাগ বসানোর ফলে ইংরেজদের আর্থিক সমস্যা অনেকটা মিটেছিল। কারণ ইংল্যান্ডে তখন যুদ্ধবিগ্রহের দরুন যে অর্থের টানাটানি পড়েছিল তার ফলে মাতৃদেশ থেকে অর্থ আমদানি করে এ দেশে কোম্পানির পক্ষে ব্যবসায় বাণিজ্য চালানো সম্ভবপর ছিল না। দেওয়ানি লাভ করার ফলে এ সমস্যার সমাধান হয় ।

৫. রাজনৈতিক গুরুত্ব : কাগজে কলমে কোম্পানি রাজস্ব আদায়ের অধিকার পেলেও কার্যত এই অধিকার কোম্পানির সার্বভৌমত্বের ভিক্তি সুদৃঢ় করে। দেওয়ানি লাভের ফলে নবাবের সামরিক ক্ষমতা কোম্পানির হাতে চলে যায় এবং নবাব কোম্পানির নিযুক্ত নায়েব – সুবা মুহম্মদ রেজা খানের হাতে নিজামতের যাবতীয় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়। এভাবে কোম্পানি বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে পড়ে ।

৬. অর্থনৈতিক গুরুত্ব : কোম্পানি দেওয়ানি লাভের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। দেওয়ানি লাভের পর ইউরোপ থেকে রৌপ্য আনার প্রয়োজন প্রায় ফুরিয়ে যায়। ফলে কোম্পানি সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে শক্তিশালী হয়ে উঠতে সমর্থ হয়। সর্বোপরি এদেশের অর্থ দ্বারা কোম্পানি ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে বিত্তশালী হয়ে ওঠে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভ ছিল বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোম্পানির সর্বশেষ কৌশলগত পদক্ষেপ। দেওয়ানি লাভের মধ্য দিয়ে কোম্পানি আইনগতভাবে বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চালিকাশক্তিতে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে ভারতবর্ষে কোম্পানির রাজ্য বিজয় সম্ভব হয় ।