― Advertisement ―

spot_img

আধুনিক পশ্চিম এশিয়া (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় : আধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাস (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241507 ক-বিভাগ (ক) UAR এর পূর্ণরূপ কি?উত্তর : UAR এর পূর্ণরূপ হলো- United...
Homeআধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি আলোচনা কর ।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি আলোচনা কর ।

ভূমিকা : বিশ শতাব্দীতে বিশ্ব রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিষয় হলো ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে জোর জবরদস্তি করে ইসরাইল নামক একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। আমেরিকা ও ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এ রাষ্ট্রটি মধ্যপ্রাচ্যে থেকে শুরু করে সমগ্র বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের সকল অশান্তির মূলহোতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেজন্যই এ দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া নামে অভিহিত করা হয়। নিম্নে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট আলোচনা করা হলো :

ইসরাইলী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট : নিম্নে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস আলোচনা করা হলো-

১. জায়োনিস্ট আন্দোলন : ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পূর্ব ইউরোপ শুরু হয় জায়োনিস্ট আন্দোলন। জায়োনিস্ট আন্দোলনের মূল কথা চিল ইহুদের প্রমিজ ল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার ওয়াদা। অর্থাৎ ফিলিস্তিনের জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে যে অঞ্চলটি রয়েছে সেটি হলো ঈশ্বর কর্তৃক ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ ওয়াদাকৃত ভূমি বা প্রমিজ ল্যান্ড ।

২. ইহুদিদের ফিলিস্তিনে ফেরা : জায়োনিস্ট আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে গঠিত হয় এশিয়া এই এশিয়ার মাধ্যমে কয়েকটি পর্যায়ে ইহুদিরা পবিত্র ভূমি ফিলিস্তিনে দলে দলে আসতে থাকে। প্রথম পর্যায় (প্রথম এশিয়া) = (১৮৮২-১৯০৩)। দ্বিতীয় পর্যায় (দ্বিতীয় এশিয়া) = (১৯০৪-১৯১৪)। তৃতীয় পর্যায় (তৃতীয় এশিয়া) = (১৯১৯-১৯২৩)। চতুর্থ এশিয়া (১৯২৪-২৯) পঞ্চমে এশিয়া ছিল (১৯২৯- ৩৯)। পর্যায়গুলোতে যথাক্রমে ৩৫,০০০, ৪০,০০০, ৯০,০০০, ৮২,০০০, ২,৫০,০০০ জন ইহুদি ফিলিস্তিনে অভিবাসিত হয়।

৩. ইউরোপে ইহুদি নির্যাতন : ইহুদিরা ছিল ইউরোপের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। খ্রিস্টান ধর্ম মতে তাদের | ধর্মীয় নবি যিশুকে ইহুদিরাই ক্রুশবিদ্ধ করেছিল। ফলে খ্রিস্টানরা ইহুদিদের উপর নানারকম নির্যাতন চালাতে থাকে। পূর্ব ইউরোপ বিশেষত জার্মানিতে নাৎসি বাহিনীর নির্যাতন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ইহুদিরা ব্যাপক আকারে ফিলিস্তিনে অভিবাসিত হয়।

৪. ব্যালফোর ঘোষণা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পতনের জেরে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের জন্য প্যালেস্টাইনে একটি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় ১৯৯৭ সালে বা ঐতিহাসিক ব্যালফোর ঘোষণা নামে পরিচিত। মূলত ব্যালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে ইহুদি বসতি প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক বৈধতা দেয়া হয়। তখন থেকে আবরা ইহুদিদের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় এবং সূচনা হয় প্যালেস্টাইন সংকটের।

৫. আমেরিকার ভূমিকা : ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা সবসময় সচেষ্ট ছিল বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা একটি নিজস্ব এজেন্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমেরিকা তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়।

৬. আমেরিকায় জিওনিস্ট কনফারেন্স : ইহুनিবাসী আন্দোলনের বিখ্যাত নেতা ছিলেন ড. ওয়াইজম্যান। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ড. ওয়াইজম্যান এবং আরো কয়েকজন ইহুদিবাদী নেতা নিউইয়র্কে জি World Jionist Conference করেন সেখানে একটি প্রস্তাব পাস হয় এবং সে অনুসারে ইহুদি সাধারণতন্ত্র বা Jewish Common welath হিসেবে প্যালেস্টানকে দাবি করা হয়।

৭. ১৯৪৪ সালের জিওনিস্ট কনফারেন্স : ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় যুদ্ধ চলকালীন সময়ে লন্ডনে জিওনিস্ট সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হেনরি ট্রুম্যান ইহুদি রাষ্ট্রের পক্ষে নিজের অবস্থান ঘোষণা করেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলিকে চাপ প্রয়োগ করেন। ব্রিটিশ সরকার প্রাথমিকভাবে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও পরে তা মানতে বাধ্য হয় ।

৮. অ্যাংলো আমেরিকান কমিটি : ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানে সংকট নিরসনে ব্রিটেন ও আমেরিকা একটি যৌথ কমিটি গঠন করে যা অ্যাংলো আমেরিকান কমিটি নামে পরিচিত। অ্যাংলো আমেরিকান কমিটি প্যালেস্টাইনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন দিক তদন্ত করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি সংগ্রহ করে ইহুদিদের অভিবাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও ইহুদিদের সাথে আরবদের দ্বন্দ্বের কারণ উদঘাটন করে। এই কমিটি ১৯৪৬ সালে সুপারিশ করে বলে যে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুপারিশ করা হয়।

৯. অ্যাংলো আমেরিকান কমিটির সুপারিশ প্রভাব : অ্যাংলো আমেরিকান কমিটি যে সুপারিশ প্রদান করে তা ইহুদিদের সন্তুষ্ট করলেও এ অঞ্চলের অন্যান্য জনগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এ সুপারিশের ফলে ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র | প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। অপরদিকে আরবরা অ্যাংলো আমেরিকান কমিটির সুপারিশে বিক্ষুব্ধ হয়। অনির্দিষ্ট কালের জন্য আরবদের উপেক্ষা করে ইহুদিদের স্বার্থ রক্ষায় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব খেপে উঠে।

১০. ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা : অবশেষে ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে প্যালেস্টাইন সমস্যা সমাধানের বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পেশ করা হয়। ইতোমধ্যে ইহুদিরা ইহুদিরা প্যালেস্টাইনের একটি অংশ দখল করে নেয়। ১৯৪৮ সালের মে মাসে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটি গঠন করে। ১৯৪৯ সালে জাতিসংঘ এ রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় ফিলিস্তিনের বুকে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, কতগুলো সংগঠিত প্রপোগান্ডা এবং আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে ফিলিস্তিনে ইসরাইল রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসরাইল আরব বিশ্বে তথা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা এবং পশ্চিমাদের স্বার্থ সংরক্ষণের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসীমূলক কাও যা যুগের পর যুগ সে অঞ্চলের ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।