― Advertisement ―

spot_img

আধুনিক পশ্চিম এশিয়া (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় : আধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাস (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241507 ক-বিভাগ (ক) UAR এর পূর্ণরূপ কি?উত্তর : UAR এর পূর্ণরূপ হলো- United...
Homeআধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসআরব লীগের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা কর ।

আরব লীগের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা কর ।

ভূমিকা : আরব রাষ্ট্রগুলোর সংহতিমূলক সংগঠন হলো আরব লীগ। ১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ এই সংগঠনের সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠাকালে এর সদস্যসংখ্যা ছিল ৭টি। কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা ২২-এ দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৮ সালে মিসর-ইসরাইল শান্তি চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আরব লীগ বিভক্ত হয়ে পড়ে। মিসর আরব লীগ ত্যাগ করে এবং ১৯৯০ সালে পুনরায় যোগদান করে। এর বর্তমান সদর দপ্তর কায়রোতে। আরব লীগের গঠন : আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরব স্বার্থ রক্ষা করাই হচ্ছে আরব লীগের উদ্দেশ্য। নিচে আরব লীগের কয়েকটি গঠন তুলে ধরা হলো-

১. আরব রাষ্ট্রসমূহের ভৌগলিক সংহতি রক্ষা জন্য
সামষ্টিগত ভাবে কাজ করা।
২. বিদেশি শক্তির দখল থেকে আরব জনগণ তথা আরব দায়িত্ব ভূখণ্ডকে মুক্ত করা ।
৩. আরব রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আরবে রাষ্ট্র প্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করা ।
৪. আরব রাষ্ট্রসমূহের আন্তঃবিরোধসমূহ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করা।
৫. এছাড়াও বহির্বিশ্বে আরব রাষ্ট্রগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করা ।
৬. আরব রাষ্ট্রগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৭. আরব রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ কল্যাণ সাধন করা ।
৮. সর্বোপরি আরব রাষ্ট্রগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা ।

→ সংযুক্তিসমূহ : আরব লীগের সংবিধানে ২০টি ধারার সাথে ৩টি সংযুক্তি রয়েছে । নিচে সেই ৩টি সংযুক্তি তুলে ধরা হলো-

১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন স্বায়ত্বশাসন লাভ করেছে এবং তা কোনো অধীনস্থ নয়। অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের মতোই আইনগতভাবে ফিলিস্তিনের সত্তা ও স্বাধীনতা সম্পর্কে কোনো প্রকার প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
২. যেহেতু আরব লীগের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কাউন্সিল ও বিভিন্ন কমিটিতে আরব বিশ্বের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য কাজ করবে এবং যেহেতু কাউন্সিল আরব লীগের সদস্য নয় এমন আরব রাষ্ট্রসমূহের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের কাজ করবে, সেহেতু লীগ সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর উচিত লীগের সদস্য হিে এর এমন রাষ্ট্রগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষা রক্ষার পথে লীগ অগ্র কাউন্সিলকে পরিচালিত করা ।

৩. সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রসমূহ আবদুর রহমান আজমকে আরব লীগের মহাসচিব হিসেবে নিয়োগের পক্ষে এতমত অ হয়েছে। এই নিয়োগের মেয়াদ হবে দুই বছর। পরবর্তীতে দুই কাউন্সিল মহাসচিব পদের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করবে।

আরব লীগের রাজনৈতিক কার্যাবলি : রাজনৈতিকভাবে → : শুরু থেকেই আরব লীগের সামনে দুটি সমস্যা বিদ্যমান ছিল। এর একটি হচ্ছে ফিলিস্তিন সমস্যা এবং অন্যটি হচ্ছে তখন পর্যন্ত প যেসব আরব অঞ্চল বিদেশি শাসনাধীনে ছিল সেগুলোর স্বাধীনতা উ সম্পর্কিত। নিচে আরব লীগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যাবলি তুলে ধরা হলো-
১. ফিলিস্তিন স্বাধীন সাহায্য : ফিলিস্তিন হচ্ছে একমাত্র দেশ যার সদস্যদের ব্যাপারে আরব লীগের সনদে একটি পৃথক সংযুক্তি রয়েছে। ফিলিস্তিনীদের স্বার্থ রক্ষায় আরব লীগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ১৯৪৫ সালের ২ ডিসেম্বর লীগের কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদি মালিকানাধীন সকল প্রকার বাণিজ্যিক তৎপরতা বর্জনের ঘোষণা দেয় ।
২. ইসরায়েলের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা : ইসরায়েলের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয় এবং যেসব বিদেশি শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের ইসরায়েলে শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় রয়েছে আর দেশগুলোতে তাদের পণ্য বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
৩. আরব-ইসরাইল যুদ্ধ : ১৯৪৮-৪৯ সালে সংঘটিত আরব- ইসরায়েল যুদ্ধে আবর লীগ সম্মিলিত আরব বাহিনীর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে। যুদ্ধের পরাজিত আরবরা ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে প্রতিহত করতে না পারলেও আরব লীগ ফিলিস্তিনি আরবদের পক্ষে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে ।
সময়-আরবলীগ মিশরের ৪. খার্তুম রেজ্যুলেশন : ১৯৫৬ সালে সুয়েজ সংকটের পক্ষ হয়ে ইসরায়েলের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। ১৯৬৪ সালে ফিলিস্তিন মুক্তি-সংস্থা (পিএলও) গঠনের পিছনেও আরব লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৬৭ সালে আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সময় লীগভুক্ত আটটি দেশের নেতৃবৃন্দ খার্তুমে মিলিত হয়ে একটি রেজ্যুলেশন পাশ করে যা ‘খাতুম রেজ্যুলেশন’ নামে পরিচিত
. ৫. ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি প্রদান : ১৯৭৯ সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মিসর ইসরায়েলকে স্বীকৃতি প্রদান করার পর পরই মিশরকে আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফিলিস্তিনীদের স্বার্থে মিশরের মতো দেশকে বহিষ্কার করে। ১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর ফিলিস্তিন জাতীয় পরিষদ কর্তৃক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণার পর পরই আরব লীগ নতুন রাষ্ট্রটিকে স্বীকৃতি প্রদান করে ।
আরব লীগের অর্থনৈতিক কার্যক্রম : অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি আরব লীগ প্রতিষ্ঠার পিচনে অন্যতম প্রধান উদ্দীপক হিসেবে কাজ করছে এবং লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। নিচে আরব লীগের প্রতিষ্ঠা পরবর্তী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম তুলে ধরা হলো-

১. অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর : ১৯৫৩ সালে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য আরব লীগের উদ্যোগে দুইটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।
(ক) পারস্পরিক ব্যবসা বাণিজ্য ও মালামাল পরিবহণ সংক্রান্ত চুক্তি। চুক্তিটিতে এতদঞ্চলে উৎপাদিত প্রায় সকল কাঁচামালের উপর শুল্ক রহিত করা হয়। এছাড়া সদস্য রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের মধ্যে most favoured nation ভিত্তিতে শিল্পপণ্যের উপর ২৫% শুল্ক ছাড় দিতে পারবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয় । (খ) সদস্য রাষ্ট্রগুলের মধ্যে পারস্পরিক লেনদেনের হিসাব ও মূলধন আদান-প্রদান সংক্রান্ত চুক্তি। এ চুক্তিতে পণ্যের মূল্য পরিশোধ সংক্রান্ত লেনদেন, ব্যবসায়িক, লভ্যাংশ স্থানান্তর, বিক্রয় ও গ্রাহক চাঁদা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছে।
২. Arab Development Bank প্রতিষ্ঠা : প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই কিছু সদস্য রাষ্ট্র একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তবে ১৯৫৩ সালে পূর্বে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ১৯৫৩ সালে ডিসেম্বর মাসে লীগের অর্থনৈতিক কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। এরই ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠিত হয় Arab Financial Instituion for Economic Development আরব উন্নয়ন ব্যাংক (Arab Development Bank) নামে পরিচিত।

৩. অভিন্ন আরব বাজার প্রতিষ্ঠা : ১৯৫৮ সালের জানুয়ারি মাসে লীগের অর্থনৈতিক কাউন্সিল ইউরোপীয় অভিন্ন বাজারের অনুকরণে আরব লীগভুক্ত দেশসমূহ নিয়ে একটি অর্থনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় যার উদ্দেশ্য ছিল-
(ক) লীগভুক্ত দেশসমূহের অবাধ চলাচল কাজকর্ম ও পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লীগভুক্ত দেশের নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
(খ) মালামাল পরিবহণ ও যাতায়াত সংক্রান্ত বিষয়ে নিঃশর্ত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা।
(গ) আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-নিষেধ যথাসম্ভব হ্রাস করা ।

উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে, আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরব স্বার্থ রক্ষা করাই হচ্ছে আরব লীগের উদ্দেশ্য। এছাড়াও আরব রাষ্ট্রসমূহের সাধারণ কল্যাণ সাধন, মর্যাদা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রসমূহের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও আরব লীগের উদ্দেশ্য। আরব লীগের সংবিধানে যে ৩টি সংযুক্তি রয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ ।