― Advertisement ―

spot_img

১৮৯২ সালে কাউন্সিল আইনের ধারাসমূহ উল্লেখ কর।

ভূমিকা : ১৮৯২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনের দ্বারা জাতীয়দের দাবিদাওয়ার একটা বিশেষ দিক বাস্তবায়নের অগ্রগতি সাধন হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের ধারায় ১৮৯২ সালের...
Homeঔপনিবেশিক শাসক১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

১৮৫৮ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

ভূমিকা উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের ধারায় এই বিদ্রোহের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বিদ্রোহ ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তারা ভারতে । বিদ্রোহের জন্য কোম্পানিকে দায়ী করে এবং ভারত শাসন আইন। প্রণয়ন করে । অন্যদিকে তীব্র বিরোধিতা করেন।

ভারত শাসন আইনের ধারা : ভারত বর্ষের ইতিহাসে ভারত শাসন আইন একটি অতীব গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় । নিয়ে ভারত শাসন আইনের প্রধান প্রধান ধারাসমূহ আলোচনা করা হল :

১. ব্রিটিশ রাজ্যের ক্ষমতা : ভারত শাসন আইনে ভারত শাসনের ক্ষমতা কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজ্যের হাতে। অর্পিত হয়। ফলে এখন থেকে ভারত মহামান্য রানির নামে কে শাসিত হবে। এ আইন বলে ইংল্যান্ডের রাজা বা রানি আ কোম্পানির স্থল ও নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হল ।

২. বোর্ড অফ কন্ট্রোল ও ডিরেক্টর সভার বিলোপ : ভারত শাসন আইনে বোর্ড অফ কন্ট্রোল এবং ডিরেক্টরস সভার বিলোপ সাধন করা ধ হয় এবং এর দায়িত্বসমূহ ভারত সচিব ও তার ভারত পরিষদ এর ইং হাতে অর্পণ করা হয় । ভারত সচিব ইংল্যান্ডের রাজারা বা রানির নামে ভারতের শাসনকার্য পরিচালনা করবেন বলে স্থির হয় ।

৩. কাউন্সিল গঠন : ভারত সচিবকে সাহায্য করার জন্য ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। এই ১৫ জনের মধ্যে ৮ জন ব্রিটিশরাজ কর্তৃক নিযুক্ত এবং ৭ জন ডাইরেক্টরস সভা কর্তৃক নির্বাচিত হন। আইনে উল্লেখ আছে যে, কাউন্সিলের অন্তত ৯ জন সদস্য ভারত সম্পর্কে অভিজ্ঞ হবেন ।

৪. শূন্য আসন পূর্ণ : ভারত সচিবের কাউন্সিলে ডিরেক্টরদের মনোনীতি কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে রাজা বা রানি কর্তৃক তা পূরণ হবে। কাউন্সিলের সদস্যগণ সদাচরণকাল পর্যন্ত নিজ নিজ পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন। পার্লামেন্টের সুপারিশকল্পে রাজা বা রানি কর্তৃক তারা অপসারিত হবেন।

৫. বেতন ভাতা : এ আইনে কাউন্সিলের প্রতিটি সদস্যকে ভারতীয় রাজস্ব থেকে বার্ষিক ১২০০ পাউন্ড বেতন দেয়া হবে। কাউন্সিল প্রতি সপ্তাহে একবার মিলিত হবে। ৫ সদস্যের উপস্থিতিতে বৈঠকের কোরাম হতো।

৬. ভারত-সচিবের ক্ষমতা : ভারত সচিব কাউন্সিলের সবঅধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। কোনো বিষয়ে কাউন্সিল সমান দুভাগে বিভক্ত হলে সেক্ষেত্রে ভারত সচিব অতিরিক্ত ভোট দিতে | পারবেন। তার অনুপস্থিতিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার হলে তার লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন ছিল ।

৭. ভারত-সচিবের স্বাক্ষর : ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ভারত সরকারের স্বাক্ষর পাঠানো হতো। অনুরূপভাবে ভারত সরকার কর্তৃক ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রেরিত সকল চিঠিপত্রে ভারত সচিবের নামে প্ররিত হতো।

৮. অধিবেশনে সভাপতিত্ব : ভারত সচিবকে তার অনুপস্থিতিতে কাউন্সিলের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য হতে একজন সহ-সভাপতি নিয়োগের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

৯. বার্ষিক বিবরণ : ভারত সচিবকে পার্লামেন্ট ভারতের রাজস্ব ও ব্যয় সম্পর্কে বার্ষিক বিবরণী পেশ ও ভারতীয়দের নৈতিক ও বৈষয়িক অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান করা হতো।

১০. সিভিল সার্ভিস : ভারত শাসন আইনে ভারতের সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধান তৈরির দায়িত্ব ভারত সচিবের উপর অর্পণ করা হয় ।

১১. কোম্পানির উত্তরাধিকার : ভারত শাসন আইনে কোম্পানির সমস্ত চুক্তি, আদান-প্রদান, দায়-দায়িত্ব কোম্পানির উত্তরাধিকার হিসেবে ভারত সচিবের উপর অর্পিত হয়।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৮৫৮ সালের কোম্পানির শত বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার ভারত শাসন আইন পাশ করেন। কোম্পানি সরকার এদেশের জনসাধারণের উপর যে অত্যাচার নির্যাতন করতো এ আইনের মাধ্যমে তা কিছুটা লোপ পায়। ভারতীয় জনগণ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায় । । ধর্মীয় সহিষ্ণু নীতি অনুসরণ করা হয়। দেশীয় নৃপতিদের সাথে র ইংরেজ শাসকদের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।