― Advertisement ―

spot_img

রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় :রাশিয়াও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241509 ক-বিভাগ (ক) কাকে মুক্তিদাতা জার' বলা হয়?উত্তর : দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে । (খ) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ...
Homeরাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসসোভিয়েত ইউনিয়নের মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের বিবরণ দাও।

সোভিয়েত ইউনিয়নের মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের বিবরণ দাও।

ভূমিকা : বিশ্ব ইতিহাসের আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সোভিয়েত ইউনিয়ন হিটলারের আকস্মিক আক্রমণের কারণে এ যুদ্ধে প্রথমদিকে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেও এ বিপর্যয় খুব দ্রুত কাটিয়ে উঠে। এক পর্যায়ে হিটলার কর্তৃক দখলকৃত ইউরোপের বিরাট এলাকা থেকে ক্রমান্বয়ে যুদ্ধের মাধ্যমে তারা হিটলার বাহিনীকে বিতাড়ন ও বিভিন্ন দেশ মুক্ত করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বার্লিনের পতন ঘটাতে সক্ষম হয় তারা । নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :

দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ : সোভিয়েত ইতিহাসে দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ বা Great Patriotic war নামে পরিচিতি ১৯৪১ সালের ২২ জুন থেকে ১৯৪৫ সালের ৯ মে পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন মিত্রশক্তির পক্ষে অক্ষশক্তির বিপক্ষে বা বিরুদ্ধে দেশপ্রেমকে উদ্বুদ্ধ হয়ে যে যুদ্ধ পরিচালনা করে। ১৯৩৯ সালের ২৩ আগস্ট কেন জার্মানি রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে ১৯৪১ ৮ সালের ২২ জুন রুশ-জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি ভঙ্গ করে সোভিয়েত ন্ন ইউনিয়ন আক্রমণ করে জার্মানির হিটলার স্বার্থ নিজ রক্ষার্থে এবং খুব বেশি আগ্রাসী হয়ে। দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ বা Great Patriotic war নামে অভিহিত করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ন। ১৯৪১ সালের ২২ জুন থেকে ১৯৪৫ সালের ৯ মে জার্মানির ক আত্মসমর্পণের তারিখ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন ফ্রন্টে ক সোভিয়েত লালফৌজ, কমিউনিস্ট পার্টির অগণিত নেতাকর্মী ও ক দেশপ্রেমিক সাধারণ জনগণ নাৎসি জার্মানি ও তার বিভিন্ন মিত্র-রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ যুদ্ধ পরিচালনা করে। সোভিয়েত জনগণের দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ বা Great patriotic war of the Soviet People Velikey a teachest Vennaya Voyna Sovetskoge Naroda নামে একটি শিরোনাম করে বড় প্রবন্ধ সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি পত্রিকা প্রাভদা প্রকাশ করে জার্মান কর্তৃক রাশিয়া আক্রান্ত হলে। নাৎসি জার্মানির ক আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশমাতৃকাকে রক্ষার জন্য এ প্রবন্ধে টি সোভিয়েত জনগণকে আহ্বান জানায়। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত
সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস গ্রন্থে দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ বলতে বলা হয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়নের ি দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ শুরু হলো। সোভিয়েত জনগণ রক্ষা f করেছিল তাদের সমাজতান্ত্রিক মাতৃভূমি তাই এটা দেশপ্রেমিক = মহাযুদ্ধ। এটা হলো মহাযুদ্ধ তার কারণ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে = জীবন-মরণ সংগ্রামের নামল সোভিয়েত জনগণ। সোভিয়েত রাষ্ট্রের ভবিষ্যতেই শুধু নয়, পৃথিবীর শ্রমিক শ্রেণির আর জাতীয় ি মুক্তির আন্দোলনের ভবিষ্যতে সমগ্র বিশ্বজনের ভবিষ্যৎই নির্ভর করেছিল এর পরিণতি উপর। ফ্যাসিস্ট আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত জনগণের যুদ্ধটা ছিল ন্যায়যুদ্ধ। কমিউনিস্ট পার্টি আর সোভিয়েত সংস্কার ঘোষণা করলো ফ্যাসিবাদের উপর পূর্ণাঙ্গ জয় হওয়া আবদ্ধ যুদ্ধ চালানো হয়ে। জাতীয় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত সমস্ত পদানত মানুষকে সাহায্য করা হবে সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণকারীদের জোরাল ছুঁড়ে ফেলে দেবার জন্য ।
এ যুদ্ধের দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ সোভিয়েত ইউনিয়নের অধিভুক্ত অঞ্চলে বলা হলেও এ শব্দের ব্যবহার বাইরে সচরাচর লক্ষ করা যায় না। তাছাড়া দেশপ্রেমিক যুদ্ধ নামে পরিচিত নয়। সোভিয়েত ইউনয়নের সাথে জাপান কিংবা ১৯৩৯ সালের পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্রের যুদ্ধ। রাশিয়া অভিযান বা পূর্ব ফ্রন্টের অভিযান হিসেবে পরিচিত জার্মানির এ অভিযান বা আক্রমণ ।
লাল ফৌজের পাশাপাশি সকল দেশপ্রেমিক জনগণ সমাজতান্ত্রিক মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য নাৎসি জার্মানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় সোভিয়েত সরকারের আহ্বান ও কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বান এ সাড়া দিয়ে। তাই এটা দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধ। রাশিয়ান জনগণের আত্মত্যাগ মানব ইউরোপের অন্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ছিল। এই সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিশাল সেনাবাহিনী ও বিপুল অস্ত্রশস্ত্রের অধিকারী জার্মানির পতন শুরু হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন একাকী প্রায় তিন বছর যুদ্ধ করে জার্মানির বিরুদ্ধে। এতে নিহত হয় ২৬.৬ মিলিয়ন সোভিয়েত নর নারী। সোভিয়েত দেশপ্রেমিক জনতা এ মোকাবিলার মাধ্যমে শুধুমাত্র সোভিয়েতকেই রক্ষা করেনি। তাদের অবদান সারা বিশ্বকে রক্ষার ক্ষেত্রে ছিল অন্যান্য।
সোভিয়েত সরকার জার্মানির সাথে যুদ্ধের সময় “Order of the patriotic war” পুরস্কার চালু করে বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য। কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা কমিটি সেরা উৎপাদনকারীর জন্য লাল পতাকা এবং বোনাস পুরস্কার চালু করেছিল
ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে মুক্তি :

১. ৫ই নভেম্বর তারিখে সোভিয়েত সৈনিকরা কিয়েভের উপকণ্ঠে পৌঁছল। সোভিয়েত বাহিনী আর জার্মান বাহিনীর মাঝে লড়াই বেঁধে গেল সেদিন রাতেই শহরের রাস্তায়। লড়াই শেষ হলো ৬ নভেম্বর সকাল ৪টা নাগাদ । ইউক্রেনের রাজধানী অবশেষে মুক্ত হলো ।
২. পেছনে সরতে থাকে জার্মান সৈন্যরা। এ সময় পোড়া মাটির নীতি গ্রহণ করে তারা। কলকারখানা, রেলস্টেশন, গবেষণাকেন্দ্র, সাধারণ ঘর বাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা।
৩. তেহরান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৩ সালের শেষের দিকে। স্তার্লিং চার্চিল আর রুজভেল্ট তিন প্রধান নেতা সেখানে ছিলেন। ১৯৪৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে পশ্চিম ফ্রন্ট খোলার হবে না জার্মানিকে। আহ্বান জানান স্তার্লিং। অন্যথায় এতো দ্রুত পরাস্ত করা সম্ভব
৪. ক্রিমিয়ায় এপ্রিল মাসের গোড়ায় কামান গর্জে উঠল। ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে জেনারেল ইয়েরেমস্কো আর জেনারেল তোলবুখিনের বাহিনী মুক্ত করতে এগিয়ে আসলো। কৃষ্ণসাগর ও অপোভসাগরও এর পাশাপাশি তাদের দখলে আসে। এভাবে ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি তাদের হাতে আসে কয়েকদিনের মধ্যেই। লেভাস্তপোলে অবরোধ করলো জার্মান বাহিনী। ঐ অবরোধ নষ্ট করে দেয় সোভিয়েত সৈন্যরা ৯ মে। ৬ জুন তারিখে ব্রিটিশ আর মার্কিন ফৌজ উত্তর ফ্রান্সের নর মাস্তিতে অবতরণ করে জেনারেল আইজেন হাওয়ারের নেতৃত্বে। ফরাসি প্রতিরোধ শক্তির সহায়তায় জার্মানদের ফ্রান্স থেকে সরিয়ে দিল শরৎকালে।
৫. এদিকে উত্তর পশ্চিমে ফিনল্যান্ডের দিকে অগ্রগামী হলো সোভিয়েত বাহিনী। ফিনল্যান্ডের ফৌজকে পরাস্ত করলো তারা। তখন যুদ্ধ বিরতি চাইলো ফিনল্যান্ড। ৪ সেপ্টেম্বর এ ফ্রন্টে যুদ্ধবিগ্রহ শেষ হয় ।
৬. বেলোরুশিয়ায় আক্রমণ অভিযান চালায় ১৯৪৪ সালের জুলাই আগস্ট মাসে। এখানে ৩৭০ মাইল ফ্রন্ট ছিল। এখানেও জার্মান বাহিনীকে পরাস্ত করা হয় বার্গামিয়ান, জাথারভ ও রকোসভস্কির নেতৃত্বে। প্রায় ৫ লক্ষাধিক সৈন্য হতাহত হয় জার্মানদের। এ সময় একটি বিশাল অংশ যুক্ত হয় বেলোরুশিয়া ও লিথুনিয়ার ।
৭. এরপর গোটা মোলদাভিয়াকে মুক্ত করে জেনারেল মালিনভাস্কি আর জেনারেল তোলবুথিনর পরিচালিত অভিযানে ২২টি জার্মান ডিভিশনকে পরাস্ত করে।
৮. সোভিয়েত বাহিনী মোলদাড়িয়ার পর প্রবেশ করে রুমানিয়ায়। যুদ্ধের সময় জার্মান বাহিনীকে সাহায্য করেছিল রোমানিয়া সরকার। তাই এসময় পালিয়ে যায় রোমানিয়ার সরকার। তবে SU-কে স্বাগত জানান রোমানিয়ার কমিউনিস্টরা। আর তখন ক্ষমতা দেওয়া হয় তাদের হাতে।
৯. সোভিয়েত বাহিনী রুমানিয়ার ভেতর দিয়ে বুলগোরিয়ায় প্রবেশ করলো। এ সময় নতুন প্রেরণা পেল বুলগেরিয়ার বিপ্লবী স্বাধীনতা নেতা ও কমিউনিস্টরা। জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো তারা ।
১০. দানিয়ুব উপত্যকায় যুগোস্লাভিয়ার সামরিক বাহিনীর সাথে সোভিয়েতের পদাতিক রেজিমেন্টগুলো মিলিত হয় ২৩ মে তারিখে। তারা দালদার জার্মানদের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছিল তিন বছর ধরে। তবে পেরে উঠছিল না জার্মান বাহিনীর সাথে । সোভিয়েতের সহায়তায় রাজধানী শহর মুক্ত হয় ২০ সেপ্টেম্বর।
১১. পোল্যান্ডে সোভিয়েতের সৈন্যরা ঢুকে পড়ে ১৯৪৪ সালের গ্রীষ্মকালে। তবে সেখানে জার্মানরা সহজেই সৈন্য সমাবেশ করতে পারতো কারণ পোল্যান্ড জার্মানির কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায়। এ সময় রাজধানী ওয়ারস শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয় হিটলারের নির্দেশে। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ ওয়ারসে মারা যান জার্মান আক্রমণে। সোভিয়েত বাহিনী এখানে পরিকল্পনা করলো যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করার। প্রথম পর্যায়ে তারা ওয়ারেসে প্রবেশ করতে না পারলেও পরবর্তীতে এদিকে মনোযোগ দেন অন্যসব জায়গায় যুদ্ধ শেষ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সকল রাজ্য জার্মানিদের হাত থেকে মুক্ত করে ফেলে ১৯৪৪ সালের মধ্যেই। জার্মানির হাতে লাতবিনিয়ার কিছু অংশ রয়ে যায়।

যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্ব/বার্লিনের পতন/ সোভিয়েতের বিজয় : সোভিয়েত জানুয়ারি মাসের ২ সপ্তাহে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিমূলক আক্রমণ আরম্ভ করে। ওয়ারস মুক্ত করে সোভিয়েত বাহিনী নির্ময় ক্ষান্তিহীনভাবে দ্রুত পশ্চিমে এগিয়ে ১৭ জানুয়ারি তারিখে। তারপর পোল্যান্ডের অসভেনস্মি শহরের বাহিরে একটি বন্দি শিবির দেখে বিভীষিকার সম্মুকীন হয় সোভিয়েত সৈনিকরা। সেখানে পাওয়া যায় লক্ষাধিক মানুষে হাড় আর নারীদের চুল । প্রায় ৪০ লক্ষের বেশি মানুষকে এখানে হত্যা করছে জার্মান বাহিনী। তারপর চেকোস্লোভাকি এবং অস্ট্রিয়ায় গিয়ে ব্রাতিস্থাভা এবং ভিয়েনাকে মুক্ত করছিলো সোভিয়েত বাহিনী বুদাপেস্ট।

যুদ্ধের শেষ পর্ব চলছিল এ পর্বে। চূড়ান্ত মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ছিল যেসব সোভিয়েত বাহিনী ওদের আর নেই যে নদী পার হয়েছিল যারা তারা বার্লিন থেকে মাত্র ৮০-৫০ মাইল দূরে ছিল। নাৎসি বাহিনী তখন ক্ষয়ক্ষতি আর দুর্গতিই বাড়াচ্ছিল পরাজয় মেনে না নিয়ে। সব ট্রেঞ্চ ব্যারিকোড আর পিলবক্স তারা সামরিক আর বেসামরিক নাগরিকদের লাগিয়ে গড়তে থাকলো। কামান স্থাপনের মঞ্চ পরিণত করলো বসতবাড়িকে। বার্লিন আক্রমণ শুরু হয় ১৫ এপ্রিল রাতে । মার্শাল জুকভের বাহিনী চললো জার্মানির রাজধানীতে ।
দক্ষিণ দিক থেকে আসে মার্শাল কোনেভের বাহিনী। উভয়পক্ষেরই বহু লোক বার্লিনে যে লড়াই ১০ দিন পর্যন্ত চলছিল তাতে হতাহত হয়। সোভিয়েত বাহিনী রাইথস্টাগের উপর লাল পতাকা উড়ায় ৩০ এপ্রিল রাতে।
জার্মান বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণ করলো। সাদা পতাকা নিয়ে তারা বের হয়ে আসলো শিবির ও নানান আশ্রয়স্থল থেকে। ইউরোপের শেষ লড়াই ছিল চেকোস্লাভা রাজধানী প্রাগকে মুক্ত করার লড়াইটি। প্রাগ সোভিয়েত মুক্ত করে মে। বিধিবদ্ধভাবে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৪৫ সালের ৮ মে। সেদিন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বার্লিন শহরের কার্লসহস্টে। পরদিন বিজয় দিবস উদযাপিত হয় সোভিয়েত ইউনিয়নে ।

উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, হিটলার এর বিরুদ্ধে চরম ও দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলে সোভিয়েত তার জনগণকে দেশপ্রেমিক মহাযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে। প্রথমত হিটলারের হাত থেকে মুক্ত করে আর সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত পুরো ইউরোপকেই হিটলারের নিকট থেকে মুক্ত করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪৪ সালের মধ্যে। এ বীরত্ব কর্মের ফলে সোভিয়েতের মতাদর্শ অর্থাৎ সমাজতন্ত্র দ্রুত ছড়িয়ে যায় পূর্ব ইউরোপের দেশসহ অন্যান্য জায়গায়। ফলে আতঙ্কিত হতে থাকে পুঁজিবাদী আমেরিকাসহ অন্যান্য মিত্রশক্তি। তবে একথা অনস্বীকার্য যে, সোভিয়েতের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ।