― Advertisement ―

spot_img

রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় :রাশিয়াও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241509 ক-বিভাগ (ক) কাকে মুক্তিদাতা জার' বলা হয়?উত্তর : দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে । (খ) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ...

রাসপুটিন কে ছিলেন?

ভূমিকা : সবার কাছে রাসপুটিন পরিচিত রাশিয়ার দ্বিতীয় নিকোলাসের দরবারে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে। রাজদরবারের অনেক কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। কারণ তার ব্যাপক প্রভাব ছিল রাজদম্পত্তির উপর। তাছাড়া রাসপুটিন ছিলেন একজন রুশ সন্ন্যাসী একজন অভিজ্ঞ পরিব্রাজক।

রাসপুটিন : তুরা নদীর তীরে পত্রভস্কায়া নামে সাইবেরিয়ার ছোট্ট একটি গ্রামে ১৮৭২ সালে রাসপুটিন জন্মগ্রহণ করেন গ্রেডারি ইয়েফেমোভিট রাসপুটিন ছিল তাঁর পূর্ণনাম। তার দুইজন সহদোর ছিল বলে মৌখিক সূত্র থেকে জানা যায়। কারণ তেমন কোনো লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়নি তার শৈশব সম্পর্কে। তার বড় ভাইয়ের নাম দমিত্রি এবং বোন মারিয়া। ঘোড়ার ব্যবসা করতেন রাসপুটিনের পিতা। একবার তার কয়েকটি ঘোড়া চুরি হলো। ঘোড়া চোরদের নাম বলে দিয়েছিলেন রাসপুটিন। ছেলেটা খ্রিস্টের আশীর্বাদ পেয়েছে বলে গ্রামের লোকেরা বলাবলি করতো।

রাসপুটিনের মধ্যে ধর্মীয় পরিবর্তন আসে ১৮ বছর বয়সে। তিনি একজন পরিবর্তিত মানুষ হয়ে যায় এ সময়। তিনি বিয়ে করেন ১৮৮৯ সালে। তার সংসারে তিনটি বাচ্চা হয়। তবুও তার মন সংসারে বসেনি। ঘুরে বেড়াতে লাগলেন তিনি। তিনি এভাবেই জার দ্বিতীয় নিকোলাসের দরবারে তার অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। রাসপুটিনের সব কথাই শুনতেন ও মানতেন দ্বিতীয় নিকোলাসের স্ত্রীগণ । রাজদরবারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা প্রচার করার কারণে। কিন্তু অন্যান্যরা এতে খুব অসন্তুষ্ট ছিলেন। কারণ দ্বিতীয় নিকোলাসের দুর্বলতা রাসপুটিনের প্রভাবে আরো বেশি প্রকাশ পাচ্ছিল এবং রাজদরবারের ও ক্ষতি হচ্ছিল। রাশিয়ার অর্থনৈতিক দুর্গতিকে জারিনা আলেকজান্ডার উপর রাসপুটিনের প্রভাবের জন্য হয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ।

পরবর্তীতে রাসপুটিনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৯১৬ সালে । কারণ তিনি বহুল আলোচিত ছিলেন তার চারিত্রিক অসততা, অর্থ লোলুপতা প্রভৃতি কারণে। প্রথমে বিষ খাওয়ানো হয় তাকে। তারপরে গুলি করে নদীতে ফেলে তাকে হত্যা করা হয় । আর প্রিন্স ফেলিকস ইউসুপভ ছিলেন এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্যোক্তা।

উপসংহার : উপরিউক্ত আলোচনা পরিশেষে বলা যায় যে, রাসপুটিনকে গুপ্তভাবে হত্যা করা হয় ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে। তাছাড়া তাকে মনে করা হতো চরিত্রহীন, লম্পট এবং তৎকালীন রাশিয়ার অনেক দুষ্কর্মের হোতা হিসেবে। রাসপুটিন তার মধ্যে অন্যতম যে কয়েকজন ব্যক্তি ইতিহাসে কুকর্মের দ্বারা কুখ্যাত পরিচয়ে পরিচিত হয়ে আছেন ।