― Advertisement ―

spot_img

বাংলার ইতিহাস (১৯০৫-১৯৪৭) পরীক্ষা-২০১৭

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ইতিহাস বিভাগ) বিষয় কোড : 241503 বিষয় : বাংলার ইতিহাস (১৯০৫-১৯৪৭) ক-বিভাগ (ক) ক্ষুদিরাম কে ছিলেন? উত্তর : ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের সর্বকনিষ্ট এক বিপ্লবী ছিলেন। (খ) কখন...
Homeবাংলার ইতিহাসবাংলায় ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা কর।

বাংলায় ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা কর।

অথবা, ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ কর ।


ভূমিকা : ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । কেননা ১৯৩৭ সালের পর দীর্ঘ ৯ বছরের ব্যবধানে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ১১টি প্রদেশের আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভারতের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম ছাড়া ও অন্যান্য ছোট ছোট দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ।

→ বাংলায় ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল : ১৯৪৬ সালের ৯ জানুয়ারি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ১১টি প্রদেশের আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাদেশিক আইন পরিষদের নির্বাচনে কংগ্রেস ১৫৮৫ আসনের মধ্যে ৯৩০টি আসনে জয়ী হয়ে ৮টি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। যে ৮টি প্রদেশে কংগ্রেস বিজয়ী লাভ করে সেগুলো আসাম বিহার, উড়িষ্যা, যুক্ত প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বোম্বে মাদ্রাজ ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ। কংগ্রেস সাধারণ ভোটের ৮০ ভাগ লাভ করে। অপরদিকে মুসলিম ভারতের প্রদেশগুলোতে মুসলমানদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯২টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৪২৮টি আসনে জয় লাভ করেন। মুসলিম লীগ বাংলা পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের ৭৪.২% ভোট লাভ করে ।

১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে মুসলিমলীগ ও কংগ্রেস বিজয় অর্জন করেন। বঙ্গীয় আইন পরিষদের ২৫০টি

আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য বরাদ্দকৃত ১২৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে ১১৪টি আসন লাভ করে। অপরদিকে কংগ্রেস ৮৫টি আসন পায়। ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কৃষক প্রজাপার্টির চরম ভরাডুবি ঘটে। এ দলটি মাত্র ৪টি আসন পায় । মুসলিম লীগ মোট ভোটের ৮৩.৪% লাভ করে। পাঞ্জাবে মুসলিম লীগ ৮৬টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৭৬টি আসন পায় । খিজির হায়াত খানের ইউনিয়নিস্ট দল ২০টি আসন লাভ করে। উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ৩৮টি মুসলিম আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ১৭টি আসন লাভ করে। কংগ্রেস ৩০টি আসন দখল করে। সিন্ধু প্রদেশের আইনসভার মোট ৫০টি আসননের মধ্যে মুসলিম লীগ ২৭টি আসন পায়। জি. এম সৈয়দের দল ৪টি স্বতন্ত্র মুসলিম লীগ ৪টি এবং কংগ্রেস ২১টি আসন লাভ করে। ১৯৪৬ সালে, সিন্ধু প্রদেশে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মুসলিম ৩৫টি আসন লাভ করে আইন সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আসাম, বিহার, উড়িষ্যা, যুক্ত প্রদেশ, মাদ্রাজ, ও বোম্বাই প্রদেশে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিহারে ৪০টি মুসলিম লীগ আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ৩৪টি যুক্ত প্রদেশের ৬৬টি আসনের মধ্যে ৫৪টি, মধ্য প্রদেশের ১৪টি আসনের মধ্যে সব কয়টি, মাদ্রাজে ২৯টি আসনের মধ্যে সব কয়টি বোম্বাইতে ৩০টির সবগুলো এবং আসামে ৩৪টির সবগুলো এবং আসামে ৩৪টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলা প্রদেশেই মুসলিম লীগ একক দল হিসেবে ক্ষমতায় আসেন । সুতরাং বলা যায় বাংলার ভোট দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৪৬ সালের বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে মুসলিম লীগ মুসলমানদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ নির্বাচনের ফলে মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি করে ।