― Advertisement ―

spot_img

রাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় :রাশিয়াও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাস (১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241509 ক-বিভাগ (ক) কাকে মুক্তিদাতা জার' বলা হয়?উত্তর : দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে । (খ) ক্রিমিয়ার যুদ্ধ...
Homeরাশিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসদ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে 'মুক্তিদাতা জার' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

ভূমিকা : রাশিয়ার, রোমানভ বংশের শাসন ইতিহাসে করেন। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব। তিনি তার যো ইতিহাসে মুক্তিদাতা জার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে সমর্থ হন। তিনি রাশিয়ান সমাজব্যবস্থার সবচাইতে বড় সমস্যা ভূমিদাস | রাজনৈতি প্রথা উচ্ছেদ করে এ খ্যাতি অর্জন করেন। তার পূর্বে ভূমিদাস করেন। শ্রেণি অভ্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত পরিস্থিতি অতিক্রম করে আসছিল। করেছেন তাদের আর্থ-সামাজিক দুলবস্থা একটা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়। ফলে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

মুক্তিদাতা জার : রাশিয়ার ইতিহাসে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার মুক্তিদাতা জার হিসেবে বিখ্যাত। তার পূর্বে ভূমিদাস শ্রেণির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। ভূমিব্যবস্থায় তারা অভিজাত জমিদার শ্রেণির জমি চাষ করতো। এটা মূলত জমিদারদের জমির ছোট অংশ। এর বিনিময়ে তাদের জমিদারদের জমিতে তিন দিন বিনা পারিশ্রমিকে বেগার খাটতে হতো। তাদেরকে গির্জা ও জমিদারদের কর প্রদান করতে হতো। তারা নানা রকম কর দেয়ার পর তাদের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের কোনো ধরনের আর্থ-সামাজিক অধিকার ছিল না। তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের কোনো অধিকার ছিল না। তাদের জীবন ছিল জমিদারদের কেনা গোলামের মতো। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ব্যক্তি অধিকার বলতে কিছু তাদের ছিল না। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য কৃষক বিদ্রোহ দেখা দিতে থাকে। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ক্ষমতায় আরোহণ করার পর তিনি এ সমস্যা বিদূরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি সেনাপতি রোস্টাভাস্টেভের নেতৃত্বে একটি কমিটি লি গঠন করেন। এই কমিটির রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ১৮৬১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জার ভূমিদাসদের মুক্তির ঘোষণাপত্র জারি করেন। ভূমিদাস মুক্তির ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ৪ টি নীতির উপর ভিত্তি করে ক মুক্তির ঘোষণাপত্র জারি করা হয়। ১. ভূমিদাসদের স্বাধীন ও মুক্ত নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। ২. মুক্ত ভূমিদাসদের জীবিকার জন্যে জমি দিতে হবে। ৩. সমগ্র ব্যবস্থাটি শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিচালিত হবে। ৪. অভিজাত বা সামন্তদের আর্থিক ক্ষতি না করে ভূমিদাস প্রথার উচ্ছেদ করা হবে। এর ফলে ভূমিদাস শ্রেণি জমিদারদের অত্যাচারের হাত থেকে রেহায় পায়। কিছু সমস্যা থাকলেও মুক্তির ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে মূলত কৃষক সম্প্রদায় মুি লাভ করে । এ কারণে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে মুক্তিদাতা জার বলা হয়। কৃষকরা যখন নিজেদের মতো করে শ্রমদান বা জমি চাষাবাদের সুযোগ পায় এবং তার মুক্ত জীবন লাভ করে। জার তাদের মুক্ত জীবনের সুযোগ করে দেয়। এ কারণে মূলত তাদের মুক্তিদাতা জার বলা হয়।

তাছাড়া নানা কারণে রাশিয়ান, সমাজব্যবস্থা তৎকালীন অন্যান্য ইউরোপীয় সমাজ ব্যবস্থা থেকে নিচুতে অবস্থান করছিল। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়াকে এ বিপদ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। রাশিয়ার কৃষক সম্প্রদায় ও সমাজব্যবস্থাকে মুক্ত করার কারণে তাকে মুক্তিদাতা জার বলা হয় ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার মূলত যোগ্যতার কারণে ইতিহাসে খ্যাতি অর্জন করেন। রাশিয়ার দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা সমস্যাগুলো তিনি তার যোগ্যতা দিয়ে সেভাবে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি কৃষক সম্প্রদায়ের মুক্তি দেয়া পাশাপাশি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলো মোকাবেলা করতে সাহায্য করেন। শুধু জনগণ তথা কৃষকদের নয় রাশিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন বলে তাকে “মুক্তিদাতা জার” বলা হয়।