― Advertisement ―

spot_img

১৮৯২ সালে কাউন্সিল আইনের ধারাসমূহ উল্লেখ কর।

ভূমিকা : ১৮৯২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনের দ্বারা জাতীয়দের দাবিদাওয়ার একটা বিশেষ দিক বাস্তবায়নের অগ্রগতি সাধন হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের শাসনতান্ত্রিক ক্রমবিকাশের ধারায় ১৮৯২ সালের...
Homeঔপনিবেশিক শাসকচিরস্থায়ী বন্দোবস্তু কী?

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তু কী?

অথবা, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের উপর টিকা লিখ ।

ভূমিকা : ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার ইতিহাসে লর্ড কর্নওয়ালিশ একজন উল্লেখযোগ্য শাসক। তার শাসনকাল ছিল ব্রিটিশ শাসনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি যখন গভর্নর জেনারেল হয়ে বাংলায় আসেন তখন বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থায় মারাত্মক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এই সমস্যার সমাধানে তিনি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাই ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত হয়ে আছে।


→ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত : ১৭৬৪ সালে ব্রিটিশরা বিজয়ী : হওয়ার পর ১৭৬৫ সালে তারা বাংলার দিওয়ানি লাভ করে এবং দ্বৈতশাসনের প্রবর্তন করেন। কিন্তু দ্বৈতশাসনের অব্যবস্থার ফলে ১৭৬৯-‘৭০ সালে বাংলায় ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর হয় এবং বাংলার প্রায় এক তৃতীয়াংশ লোক মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস এসে এই অরাজকতাকে পুনরুদ্ধারের জন্য পঞ্চসালা বন্দোবস্তের অনুমোদন দেন। কিন্তু কিছুদিন পর এই পঞ্চসালা বন্দোবস্ত ও ব্যর্থ হয়। এদিকে ১৭৮৪ সালে House od communce এ pitt india act আইন পাশ করেন। এই Act এর ৩৯ নং ধারায় স্থানীয় আইন ও প্রথার ভিত্তিতে চিরস্থায়ী ভূমি বন্দোবস্তের নির্দেশ দেয়া হয়। এ অবস্থায় ১৭৭৫ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশ বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন এবং তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান। তিনি ১৭৯০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে একটি পঞ্চসনা বন্দোবস্তের প্রবর্তন করেন এবং ঘোষণা দেন কোম্পানির ডাইরেক্টর সভার অনুমোদন দিলে পরে তিনি এই পঞ্চসনা ব্যবস্থাকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের রুপ দান করবেন। পরে নানা বিতর্ক ও আলোচনা পর্যালোচনার পরে কোম্পানির ডাইরেক্টর সভা ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অনুমতি দান করেন। ফলে পূর্বের পঞ্চসনা বন্দোবস্ত ব্যবস্থাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের রুপ পরিগ্রহ ও করে। লর্ড কর্নওয়ালিশের এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্যেই ছিল কোম্পানির রাজস্ব নির্দিষ্ট করা। এই ব্যবস্থা ও প্রবর্তনের ফলে কোম্পানি তাব রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব তাদের তাঁবেদার জমিদার শ্রেণির হাতে অর্পণ করে চিন্তামুক্ত হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার ফলে বাংলার সাধারণ কৃষকগণ চরম নির্যাতন- নিপীড়নের মুখোমুখি পতিত হয় ।


উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যদিও একটি ভালো উদ্দেশ্য সামনে রেখে প্রবর্তন করা হয় কিন্তু তার মুলে ছিল কোম্পানির রাজস্ব প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, ফলে কোম্পানির দাসানুদাস জমিদাররা রাজস্ব আদায়ের জন্য কৃষক-প্রজাদের উপর নির্মম নির্যাতন শুরু করেন।