― Advertisement ―

spot_img

আধুনিক পশ্চিম এশিয়া (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস বিভাগ)বিষয় : আধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাস (১৯৪৫ সাল পর্যন্ত)বিষয় কোড : 241507 ক-বিভাগ (ক) UAR এর পূর্ণরূপ কি?উত্তর : UAR এর পূর্ণরূপ হলো- United...
Homeআধুনিক পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসক্যাম্প ডেভিট চুক্তি কি?

ক্যাম্প ডেভিট চুক্তি কি?

অথবা, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি বলতে কী বুঝ?

ভূমিকা : কিসিঞ্জারের কূটনৈতিক তৎপরতায় ১৯৭৪ ও ৭৫ সালে দু’দফায় মিশর ও ইসরাঈলের মধ্যে আলোচনার ফলে দু’দেশের সেনাবাহিনীর অবস্থানে কিছু পরিবর্তন আনা হয় । তবে সম্পূর্ণ সিনাই উপদ্বীপ থেকে ইসরাঈলী বাহিনীর অপসারণ ও মূল ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কোন অগ্রগতি সাধিত না হওয়ায় সা’দাত অসহিষ্ণু হয়ে পড়েন।

১. ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি : প্রেসিডেন্ট সা’দাত মনে করেন যে, কোন নাটকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হবে না। ১৯৭৭ সালে সা’দাত ইসরাঈল গমন করেন এবং নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকে। অবশেষে ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট কার্টার দু’দেশের নেতৃবৃন্দকে প্রেসিডেন্টের অবকাশ ভবন ক্যাম্প ডেভিড আহ্বান করেন এবং ১৩ দিন একটানা আলোচনার পর ১৭ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন, মিশর ও ইসরাঈলের মধ্যে সমঝোতার দলিল স্বাক্ষরিত হয়। এটাই ইতিহাসে ‘ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি’ নামে পরিচিত।

২. চুক্তির মূল বিষয় : ক্যাম্প ডেভিড সমঝোতা মূলত দু’টি দলিল। প্রথম দলিলটি জর্দান প্রদীয় পশ্চিম তীর ও গাজা .এলাকার ভবিষ্যৎসহ ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান সম্পর্কিত এবং দ্বিতীয় দলিলটি মিশর ইসরাঈলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্বন্ধীয় ।

৩. পশ্চিম তীর ও গাজা এলাকার ভবিষ্যৎ : পশ্চিম তীর ও গাজা এলাকায় পর্যায়ক্রমে ইসরাঈলী সামরিক ও বেসামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে স্বায়ত্বশাসন প্রদান করা হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধি পরিষদ ইসরাঈল ও জর্ডানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মধ্যে এ দু’এলাকার ভবিষ্যৎ চূড়ান্তভাবে দূর করা হবে। আপাত দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় মনে হলেও এ প্রস্তাবাবলি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে, ইসরাঈলী দখলের অবসান না ঘটিয়ে নূতন রূপে এ দখল পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে । যথা :
প্রথমত, স্বায়ত্বশাসনের অত্যন্ত সীমিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। সামাজিক ও পূর্ত বিভাগীয় কিছু কাজকর্ম করা ছাড়া রাজনৈতিক কোন ভূমিকা এ স্বায়ত্বশাসিত সংস্থাসমূহের থাকবে না ।
দ্বিতীয়ত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব প্রধানত ইসরাঈলের ওপর ন্যস্ত থাকবে ।
তৃতীয়ত, বিশেষ বিশেষ এলাকায় ইসরাঈলী সৈন্য রাখারও ব্যবস্থা করা হয় ।

৪. মিশর-ইসরাঈল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক : মিশর-ইসরাঈল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়। চুক্তি মোতাবেক সিনাই উপদ্বীপ থেকে দু’টি প্রধান পর্যায়ে ইসরাঈলী সৈন্য অপসারণের কথা বলা হয়। পর্যায়গুলোকে উপ- পর্যায়ে ভাগ করা হয় এবং সৈন্য অপসারণের নির্দিষ্ট সময়সূচি দেয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে সৈন্য অপসারণের পর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলা হয়। চুক্তিতে আরো বলা হয়, মিশর-ইসরাঈল চুক্তির সাথে মিশরের পূর্বতন চুক্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে চুক্তি বা চুক্তিসমূহ বাতিল বলে গণ্য হবে ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি ইসরাঈলের অবৈধ দখলদারীত্বকে আরো পাকাপোক্ত করার ব্যবস্থা করেছে। এ চুক্তির পথ বেয়ে সম্পাদিত মিশর-ইসরাঈল চুক্তি একটি আত্মসমর্পণের দলিল হিসেবে আখ্যায়িত হয়ে আরব বিশ্বের নিন্দার পাত্রে পরিণত হয়েছে মিশর ।