জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

[বিএ (অনার্স) চতুর্থ বর্ষ; পরীক্ষা-২০১৭ (অনুষ্ঠিত- ১০/০৩/২০১৮)]

(ইতিহাস বিভাগ)

বিষয় কোড : 241503

বিষয় : বাংলার ইতিহাস (১৯০৫-১৯৪৭)

ক-বিভাগ

(ক) ক্ষুদিরাম কে ছিলেন?

উত্তর : ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম দিকের সর্বকনিষ্ট এক বিপ্লবী ছিলেন।

(খ) কখন মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর : ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর।

(গ) অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব কে প্রদান করেন?

উত্তর : মহাত্মা গান্ধী ।

(ঘ) বঙ্গভঙ্গ কবে রদ করা হয়?

উত্তর : ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর।

(ঙ) বেঙ্গল প্যাক্ট হয় কত সালে?

উত্তর : ১৯২৩ সালে ।

(চ) কখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর : ১৯২১ সালে ।

(ছ) খিলাফত আন্দোলনের দুইজন নেতার না লিখ ।

উত্তর : মওলানা মোহাম্মদ আলী ও মওলানা শওকত আলী ।

(জ) মার্লো-মিন্টু সংস্কার আইন কত সালে পাস হয়?

উত্তর : ১৯০৯ সালে।

(ঝ) দ্বি-জাতিতত্ত্ব কে উত্থাপন করেন?

উত্তর : মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ।

(ঞ) কার নেতৃত্বে কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করা হয়?

উত্তর : শেরে বাংলা ফজলুল হকের নেতৃত্বে।

(ট) বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

(ঠ) বাংলার ইতিহাসে ১৯৪৩ সাল বিখ্যাত কেন ? উত্তর : মহাদুর্ভিক্ষের জন্য বিখ্যাত

খ-বিভাগ

অথবা, ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্তির কারণ ও ফলাফল বর্ণনা কর।


ভূমিকা : ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দুদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করে। যার ফলে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্ত হয়েছিল পূর্বেকার বিভাগ অনুসরণ করেই। তবে এ বিভাগ হয়েছিল মূলত হিন্দু মুসলিম জনমত, সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব ও জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে। বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী বাংলাকে একটি অখন্ড রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু তাতে তিনি ব্যর্থ হন। ১৯৪৭ সালের বাংলা বিভক্তি ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

→ ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্তির কারণ : নিম্নে ১৯৪৭ সালের বাংলা বিভক্তির কারণ তুলে ধরা হলো-

১. প্রাধান্য সৃষ্টি : ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলায় যে কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটি নির্বাচনের পর কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হয়েছিল। এসব কোয়ালিশন সরকারে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বের প্রাধান্য ছিল। এতে হিন্দুদের মধ্যে অনেক অসন্তোষ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছিল । ফলে হিন্দুদের মধ্যে সংশয় দেখা দেয় যে বাংলা অবিভক্ত থাকলে সেখানে মুসলমানদের আধিপত্য থাকবে। অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে শংকা ছিল যে বাংলা অখন্ড ভারতের অঙ্গীভূত হলে সেখানে হিন্দুরা আধিপত্র বিস্তার করবে। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার কারণে বাংলা বিভক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

২. মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা : ১৯৪৭ সালের মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বাংলা বিভক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার পরিকল্পনায় বাংলা বিভক্তির বিস্তারিত আলোচনা কার্যক্রম ও ক্ষমতা হস্তান্তরের পদ্ধতিসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এসবের মধ্যে বাংলায় হিন্দু অধ্যুষিত ও মুসলিম অধ্যাষিত এলাকায় - আলাদাভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি সীমানা কমিশন গঠন করা হয়।

৩. গণপরিষদের রায় : ১৯৪৭ সালের ৩ জন পরিকল্পনা * অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার বাংলা বিভক্তির সিদ্ধান্তে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন গণপরিষদে বেশ কয়েক দফা ভোট গ্রহণ করা হয়। প্রথমে গণপরিষদের সদস্যরা ১২৬-৯০ ভোটের ব্যবধানে ভারতের গণপরিষদে বাংলা বিভক্তির সিদ্ধান্তের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় গণপরিষদ সদস্যসমূহ পৃথক বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা বিভক্তির প্রস্তাব অনুমোদন করন এবং পাকিস্তানের নতুন পরিষদে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাসমূহের গণপরিষদে সদস্যগণ ৫৮-২১ ভোটে বাংলা বিভক্তির বিপক্ষে রায় দেন।

৪. সংখ্যা সাম্যতত্ত্বের বিরোধিতা : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অখণ্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র জীবনের পরিকল্পনা করেন। তিনি চাকরি ও জনপ্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে বাংলায় সংখ্যা সাম্য প্রতিষ্ঠা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু এই সংখ্যা সাম্যকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। এ কারণে হিন্দুদের সংখ্যাসাম্য মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। সংখ্যা সাম্যের বিরোধিতা ১৯৪৭ সালের বাংলা বিভক্তির অন্যতম কারণ ছিল।

৫. সর্বভারতীয় বাঙালি নেতার অভাব : দেশ বন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস একজন বিখ্যাত বাঙালি নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর যোগ্যতা সম্পূর্ণ কোনো নেতা ভারতে ছিলেন না। এ কারণে ভারতে নেতৃত্ব বাংলাকে গ্রাস করে ফেলে। এতে করে বাংলা বিভক্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে ।

৬. সুভাষচন্দ্র বসুর ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা : ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে ২৬ জন জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মাত্র ৬ জন বাঙালি ছিলেন কিন্তু ১৯১০- ১১ সালের পর চিত্তরঞ্জন দাস ও সুভাষচন্দ্র বসু ছাড়া ভিন্ন আর কোনো বাঙালি পাওয়া যায়নি। সুভাষচন্দ্র দুইবার কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। দ্বিতীয়বার সভাপতি নির্বাচিত হলে মহাত্মা গান্ধির অসহযোগিতার কারণে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। সুভাষচন্দ্র বসুর ব্যক্তি ও নেতৃত্ব দুর্বলতার কারণে তার কাছ থেকে তেমন ভালো কিছু আশা করা যায়নি।

৭. একে ফজলুল হকের অপরিনামদর্শিতা : বাংলায় মুসলমান সমাজে ব্রিটিশ শাসনের শেষদিকে মধ্যবিত্ত অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর বাঙালি মধ্যবিত্ত থেকে ফজলুল হক বের হয়ে আসেন। তিনি অত্যন্ত বড় মাপের নেতা ছিলেন। তবে তাকে তার নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যেই রাজনীতি করতে হয়েছিল। তার মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ছিল না বসলেই চলে ।

৮. বাঙালি নেতৃত্বের অভাব : বাংলায় বাঙালি নেতৃত্বের অভাব ১৯৪৭ সালের বাংলা বিভাগের একটি অন্যতম কারণ ছিল। এ সময় মুসলমান নেতাদের মধ্যে অনেকেই বাংলায় ছিলেন কিন্তু বাঙালি ছিলেন না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিম উদ্দিনের অনেক পার্থক্য ছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে একই খাটি বাঙালি ছিলেন না। বাংলা তাদের ভাষা ছিল না। তাই বলা যায় বাংলা বিভক্তির প্রকৃত বাঙালি নেতার অভাব ছিল ।

৯. খাজা নাজিমউদ্দিনের উস্কানিমূলক বক্তব্য : ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আরম্ভ হয়। এতে নাজিমউদ্দিন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কলকাতায় একটি অধিবেশনে বলেন আমাদের সংগ্রাম ইংরেজদের বিরুদ্ধে নয় হিন্দুদের বিরুদ্ধে। এসব উস্কানিমূলক বক্তব্য বাংলা বিভক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১০. সাংগঠনিক যোগাযোগের অভাব : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার মাধ্যমে হবেন যায় সে ক্ষমতা হস্তান্তর আসন্ন। এ কারণে তকন থেকেই হিন্দু মুসলমান নেতারা ভাগাভাগির বিষয়ে নিয়ে তৎপর হয়ে উঠে। যার ফলে বসু সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছিল ।

১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্তির ফলাফল : ১৯৪৭ সালের বাংলা বিভক্তির ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। কারণ বাংলা ভাগকে মুসলমানরা দাবি করেছিল তাদের বিজয় হিসেবে এবং তারা বহুদিনের আলাদা মুসলিম রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণে আনন্দের জোয়ার ভাসছিল । অন্যদিকে ভারতীয় হিন্দু ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী মুসলিমদের মনভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। যদি ও ব্রিটিশরা মনে করেছিল যে ভারত বিভক্তির ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিরসন হবে। কিন্তু ভারত তথ্য বাংলা বিভক্তির পর পরই দেখা যায় পাঞ্জাব ও বঙ্গ প্রদেশের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা যা ভারত পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও নাজুক করে দেয়। যা দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। ব্রিটিশরা ভারতকে ভাগ করার সময় কিছু বিষয় অমীমাংসিত অবস্থায় রেখে যায় যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার উদ্ভব হয়। বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করার কারণে এসব অঞ্চলের মানুষের মনে নিজ জাতিসত্তা ভেঙ্গে যাওয়ার ক্ষোভ দানা বাধে। যার ফলে এ অঞ্চলের মানুষ অন্য জাতিসত্তার শাসনকে মেনে নিতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের মত স্বাধীন দেশের উত্থান হয়। এর পিছনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল পাকিস্তানের বঞ্চনা, ব্রিটিশরা অতি সাধারণ বাণিজ্যিক বেশে এদেশে আসলেও তাদের চলে যাওয়াটা ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। তার আসার সময় অখণ্ড ভারতে আসলে ও যাবার সময় তা খণ্ড বিখণ্ড করে রেখে যায়। আর ভারত খন্ডিত হবার সকল রসদ তারাই যুগিয়েছিল। কারণ তারাই পরোক্ষভাবে হিন্দু মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি করে। তারা হিন্দু মুসলিম সাম্প্রীতিকে ভয় পেত যদি সম্মেলিত আন্দোলন তাদের পতন ঘটায়। যা ভারত ভাগ করার ফলেও জিয়ে রাখে। পরবর্তী সময়ে ভারত বিভাগের পর এই সম্প্রীতি আর গড়ে উঠেনি; বরং তা চরাই উতরাই পেরিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে আজো টিকে আছে। যা বর্তমানের ভারত পাকিস্তানের সীমান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খেলাধুলা সব জায়গায় আছে। কবে এই আক্রমণাত্মক প্রতিযোগিতা শেষ হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, কংগ্রেস নেতা মহাত্মা গান্ধী মুসলিম নেতা মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহর নিকট অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাব দিলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ স্বাধীন বাংলার প্রস্তাব ভালভাবে গ্রহণ করেননি। এছাড়া সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিন্দু মহাসভা এবং কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়াশীল ও অবাঙালি নেতাগণ এ প্রস্তাবের কঠোর বিরোধীতা করে। যার ফলে বাংলা বিভক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তারাই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভক্ত হয়েছিল।

অথবা, ১৯৪০-৪৭ সময়কালে বাংলায় হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক পর্যালোচনা কর ।


ভূমিকা : হিন্দু ও মুসলিম বাংলার অন্যতম দুটি সম্প্রদায়। বাংলায় এই দুটি জাতিগোষ্ঠী ছাড়াও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর লোক বসবাস করতো। কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে এই দুই জাতি গোষ্ঠীর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময় সুখ দুঃখে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তারপর ও বাংলার হিন্দু মুসলমানদের এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল ।

→ ১৯৪০-৪৭ সময়কালে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক : নিম্নে ১৯৪০- ৪৭ সময়কালে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক আলোচনা করা হলো-

১. বঙ্গভঙ্গের প্রভাব : ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর থেকে হিন্দু মুসলিম সম্পর্কের ফাটল ধরে। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানরা অনেক খুশি হয়েছিল। অন্যদিকে হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের ব্যাপক বিরোধিতা করে তা রদ করার দাবি তুলে। ইতোপূর্বে তাদের মধ্যে মতানৈক্য ছিল না। ব্রিটিশরা এই বিভাজনের বীজ রোপন করেছিল । যার ফলে তখন থেকেই হিন্দু মুসলিম এই দুই জাতির চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরম্ভ হয়

২. এ. কে ফজলুল হকের মন্ত্রিসভা : এ. কে ফজলুল দুইবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এই দুইবার মন্ত্রিসভা গঠন করে বেশকিছু সংস্কার সাধন করেন। একে ফজলুল হক কৃষকদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি মুসলমান শিক্ষার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এগুলোর ফলে হিন্দুদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় ।

৩. লাহোর প্রস্তাব : ভারতের জাতীয় কংগ্রেস হিন্দুরা ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। এজন্য মুসলমানরা ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠন করেন। মুসলিম ও কংগ্রেস ভারতের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল । এই দুটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হিন্দু মুসলমান দুটি আলাদা জাতি হিসেবে আবির্ভূত হয়। যার কারণে একে ফজলুল হক ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাবের অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত হয়। এটি ছিল মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের একটি প্রস্তাব। লাহোর প্রস্তাবের ফলে হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল ।

৪. আগস্ট প্রস্তাব : ভারতের রাজনৈতিক অস্তিরতা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল ঠিক তখনই ব্রিটিশ সরকার আগস্ট প্রস্তাব পেশ করেন। এই আগস্ট প্রস্তাবকে মুসলমানরা স্বাগত জানিয়েছিল। অপরদিকে হিন্দুরা আগস্ট প্রস্তাবের চরম বিরোধিতা করে। এর ফলে হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় ।

৫. ক্রিপস মিশন : ১৯৪২ সালের ক্রিপস মিশন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ব্রিটিশ সরকার ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৪২ সালে ক্রিপস হোমা করে। এই ক্রিপস মিশনে ব্রিটেনের স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছিল। যার ফলে এই মিশনকে হিন্দু মুসলিম

উভয়ই পরিত্যাগ করেছিল।

৬. ভারত ছাড় আন্দোলন : ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হলে ভারতবাসীর মধ্যে প্রবল হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এজন্য ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধী ভারত ছাড় আন্দোলনের ডাক দেন।  আন্দোলন শুরু করা হয়েছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। ভারত ছাড় আন্দোলনের হিন্দু ও মুসলমান উভয়ই অংশগ্রহণ করেছিল কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর বিরোধিতা করেন।

৭. মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা : ব্রিটিশদের শাসনের প্রতি জনগণ যখন চরম অতিষ্ট ঠিক এ সময় মুসলমানরা নিজেদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেন। এর ফলে হিন্দু মুসলমানাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

৮. ১৯৪৬ সালের নির্বাচন : ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম জয় লাভ করে ব্যাপক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেন। এই নির্বাচনে জয়লাভ করার ফলে মুসলিম নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেশ তৎপর ছিলেন। সেজন্য হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় ।

৯. কলকাতায় হত্যাকাণ্ড : বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগ সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম কলকাতা থেকে বোম্বাই আসেন। এরপর তাঁরা সেখানে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সোহরাওয়ার্দী প্রতিবাদ সভার মুসলিম লীগের প্রত্যক্ষ সংগ্রামে গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। যার ফলে কলকাতায় এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা আরম্ভ হয়। এই দাঙ্গার ফলে হিন্দু মুসলিমদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

১০. ভারত বিভক্তি : ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট বিন্দু ও মুসলমানদের দাবির মুখে ভারত বিভক্তি করেন। ব্রিটিশরা ভারত বিভক্তি করলে ও এর অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল। সেজন্য মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস এর বিরোধীতা করে। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা ভারত বিভক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৪০-৪৭ সাল পর্যন্ত হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে তিক্ততার সম্পর্ক বিরাজ করছিল। এই সম্পর্ক তাদেরকে দিনদিন ধ্বংসের দিকে ধাপিত করেছিল। যার ফলে, হিন্দু মুসলমান উভয়ই জাতি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার শক্তি সাহস হারিয়ে ফেলেছিল। ঠিক এই মহূর্তে ভারত বিভাগ ছিল ভারতবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এর মাধ্যমে প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের পতন ঘটে।

অথবা, সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার (১৯৪৬-৪৭) গঠন ও কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভূমিকা : ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ব্রিটেনে না সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শ্রমিক দল জয়লাভ করে। ইংল্যান্ডের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৪৬ সালে স ভারতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলার ইতিহাসে ১৯৪৬ সালের মার্চে প্রাদেশিক নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ নির্বাচনে সুমুসলিম লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করেন। সোহরাওয়ার্দীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১২১টি আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ১১৪টি আসন লাভ করে। অতঃপর সোহরাওয়ার্দী পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হয়। ১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

→ মন্ত্রিসভার গঠন : ১৯৪৬ সালের ২৪ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী ৮ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন । এ ৮ জনে সদস্যের মধ্যে ৭ জন ছিলেন মুসলিম দলীয় এবং ১ জন তফসিলী হিন্দু। এ মন্ত্রিসভার সদস্যগণ হলেন-

১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বসহ।

 ২. আহমদ হোসাইন কৃষি ।

৩. খান বাহাদুর আবুল গোফরান- বেসামরিক সরবরাহ।

৪. খান বাহাদুর মুহাম্মাদ আলী অর্থ জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার।

৫. খান বাহাদুর মোয়াজ্জেদ্দিন হোসাইন শিক্ষা ও রাজস্ব।

 ৬. খান বাহাদুর এ এফ এম আবদুর রহমান সমবায় ও সেচ ।

৭. শামসুদ্দিন আহমদ বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প ।

৮. যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল বিচার পূত গৃহনির্মাণ ।

এ মন্ত্রিসভায় ৪ জন প্রাক্তান মন্ত্রি ও ৪ জন খান বাহাদুর খেতাবধারী অন্তর্ভুক্ত হলেও মূলত এই মন্ত্রিসভা সমাজের মধ্যবিত্ত স্বার্থেরই প্রতিনিধিত্ব করে। উল্লেখ্য ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো বাংলায় একটি মন্ত্রিসভা গঠিতে ১ যাতে ঢাকার নবাব পরিবারের কেউ অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নাজিউদ্দিনের অনুসারী কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান প্র পায়নি। এরা সকলেই সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী ছিলেন। যাহোক, ক্ষ মন্ত্রিসভা গঠন করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কিছু আসন মা * খালি রেখেছিলেন এই প্রত্যাশায় যে, কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে যু একটি সমঝোতা হলেও হতে পারে। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি ে তখন তিনি খাজা নাজিমউদ্দিন গ্রুপের প্রতি কিছুটা নমনীয় হন। রা তাছাড়া খাজা নাজিমউদ্দিন দেখলেন যে জিন্নাহ কিছুতেই স

সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগের কথা বলছেন না। তখন তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাথে তার অনুসারীদের যাতে দূরত্ব না বাড়ে সেদিকে সচেষ্ট হন। ফলে ১৯৪৬ সালের নভেম্বর মাসে সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেন। এতে খাজা নাজিমউদ্দিন গ্রুপের প্রভাবশালী সদস্য ও প্রাক্তন চিপ হুইপ  ফজলুর রহমান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। খাজা সদস্যের অপর সদস্য নূরুল আমিনকে স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। এছাড়াও ১৩ জন খাজা নাজিমউদ্দিনের গ্রুপ থেকে নেয়া হয় ।

→ সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভা কার্যাবলি : সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভা ১৫ মাস ক্ষমতায় ছিল। এ সময় তাদের পক্ষে কোনো উল্লেখযোগ্য কোনো আইনগত বিধান রচনা করা সম্ভব হয়নি। ঠিক এ সময় তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়। তারা তেভাগা আন্দোলনকে সমর্থন করে কৃষকদের স্বার্থের কথা মনে রেখে আইন সভায় বেঙ্গল বর্গাদার (প্রভিশনাল) কন্ট্রেল বিল নামে একটি বিল উত্থাপন করে। কিন্তু মুসলিম লীগের জোড়দার সদস্যদের বিরোধিতার কারণে তা পাশ করা সম্ভব হয়নি। শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের শাসনামলে গঠিত ফ্রাউড কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্য এপ্রিল মাসে আইনসভায় তোলা হলেও বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা আইনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃতপক্ষে সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার কার্যকাল ছিল বাংলা ও ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্রান্তিকাল। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবমান দেশ বিভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে এই অধ্যায়ের রাজনীতি আবর্তিত হয়। এই সময় কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দাঙ্গা রোধে সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার ব্যর্থতা; স্বাধীন অখন্ড বাংলা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আনেদালন ইত্যাদি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে সোহরাওয়ার্দীর অবস্থান প্রশ্নে সম্মুখীন হয় ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়কাল বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। এ সময় বাংলার রাজনীতিতে মুসলমানদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কালপর্বে চারটি মন্ত্রিসভা বাংলায় ক্ষমতাসীন হয়। তবে ৪টি মন্ত্রিসভার মধ্যে ফজলুল হকের প্রথম মন্ত্রিসভা ছাড়া অন্যকোন মন্ত্রিসভা তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ও । যুগান্তকারী ভূমিকা পালতে করতে পারেনি। এ সময় । সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভাকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে উদ্ভূত । রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে নিয়োজিত হতে হয়।

অথবা, ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ কর ।


ভূমিকা : ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । কেননা ১৯৩৭ সালের পর দীর্ঘ ৯ বছরের ব্যবধানে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ১১টি প্রদেশের আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভারতের বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম ছাড়া ও অন্যান্য ছোট ছোট দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ।

→ বাংলায় ১৯৪৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল : ১৯৪৬ সালের ৯ জানুয়ারি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের ১১টি প্রদেশের আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাদেশিক আইন পরিষদের নির্বাচনে কংগ্রেস ১৫৮৫ আসনের মধ্যে ৯৩০টি আসনে জয়ী হয়ে ৮টি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। যে ৮টি প্রদেশে কংগ্রেস বিজয়ী লাভ করে সেগুলো আসাম বিহার, উড়িষ্যা, যুক্ত প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বোম্বে মাদ্রাজ ও উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ। কংগ্রেস সাধারণ ভোটের ৮০ ভাগ লাভ করে। অপরদিকে মুসলিম ভারতের প্রদেশগুলোতে মুসলমানদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৯২টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৪২৮টি আসনে জয় লাভ করেন। মুসলিম লীগ বাংলা পাঞ্জাব ও সিন্ধুতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। মুসলিম লীগ মুসলমানদের ৭৪.২% ভোট লাভ করে ।

১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে মুসলিমলীগ ও কংগ্রেস বিজয় অর্জন করেন। বঙ্গীয় আইন পরিষদের ২৫০টি

আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য বরাদ্দকৃত ১২৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে ১১৪টি আসন লাভ করে। অপরদিকে কংগ্রেস ৮৫টি আসন পায়। ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কৃষক প্রজাপার্টির চরম ভরাডুবি ঘটে। এ দলটি মাত্র ৪টি আসন পায় । মুসলিম লীগ মোট ভোটের ৮৩.৪% লাভ করে। পাঞ্জাবে মুসলিম লীগ ৮৬টি মুসলিম আসনের মধ্যে ৭৬টি আসন পায় । খিজির হায়াত খানের ইউনিয়নিস্ট দল ২০টি আসন লাভ করে। উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ৩৮টি মুসলিম আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ১৭টি আসন লাভ করে। কংগ্রেস ৩০টি আসন দখল করে। সিন্ধু প্রদেশের আইনসভার মোট ৫০টি আসননের মধ্যে মুসলিম লীগ ২৭টি আসন পায়। জি. এম সৈয়দের দল ৪টি স্বতন্ত্র মুসলিম লীগ ৪টি এবং কংগ্রেস ২১টি আসন লাভ করে। ১৯৪৬ সালে, সিন্ধু প্রদেশে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মুসলিম ৩৫টি আসন লাভ করে আইন সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আসাম, বিহার, উড়িষ্যা, যুক্ত প্রদেশ, মাদ্রাজ, ও বোম্বাই প্রদেশে কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিহারে ৪০টি মুসলিম লীগ আসনের মধ্যে মুসলিম লীগ ৩৪টি যুক্ত প্রদেশের ৬৬টি আসনের মধ্যে ৫৪টি, মধ্য প্রদেশের ১৪টি আসনের মধ্যে সব কয়টি, মাদ্রাজে ২৯টি আসনের মধ্যে সব কয়টি বোম্বাইতে ৩০টির সবগুলো এবং আসামে ৩৪টির সবগুলো এবং আসামে ৩৪টি আসনের মধ্যে ৩১টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলা প্রদেশেই মুসলিম লীগ একক দল হিসেবে ক্ষমতায় আসেন । সুতরাং বলা যায় বাংলার ভোট দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৪৬ সালের বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে মুসলিম লীগ মুসলমানদের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ নির্বাচনের ফলে মুসলিম লীগ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দাবি করে ।

অথবা, ১৯৪৩ সালের মহাদুর্ভিক্ষের উপর একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা কর


উত্তর :ভূমিকা : ১৯৪২ সালের শেষদিকে দেশে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এই সংকট মোকাবিলা করার মতো জনসমর্থন ফজলুল হক মন্ত্রিসভার ছিল না। এজন্য ১৯৪৩ সালের ২৮ মার্চ ফজলুল হক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার পদত্যাগের পর ১৯৪৩ সালের ২৪ এপ্রিল খাজা নাজিম উদ্দিন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তার মন্ত্রিসভা গঠনের অল্পদিনের মধ্যে ১৯৪৩ সালে বাংলায় মহাদুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই দুর্ভিক্ষে আনুমানিক ৩৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের জন্য ভারত সরকার হক মন্ত্রিসভা ও মুসলিম লীগ সকলেই কমবেশি দায়ী ছিল।

→ ১৯৪৩ সালের মহাদুর্ভিক্ষের কারণ : নিম্নে ১৯৪৩ সালের মহাদুর্ভিক্ষের কারণসমূহ আলোচনা করা হলো-

১. রাজনৈতিক দলসূহের অবহেলা : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক দলসমূহের অবহেলা। ফজলুল হকের সময় দেশে ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দেয়। যার কারণে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এরপর খাজা নামিজউদ্দিনের মন্ত্রিসভা গঠনের অল্পদিনের মধ্যে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এ দুর্ভিক্ষে ৩৩ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। তৎকালীন বাংলা সরকার কর্তৃক উডহেড কমিশন যে রিপোর্ট পেশ করে তাতে বলা হয় দুর্ভিক্ষের জন্য ভারত সরকার হক মন্ত্রিসভা ও মুসলিম লীগ আংশিকভাবে দায়ী ছিল ।

২. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা ও এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল। এ সময় জাপানিদের ভারত আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের যানবাহন নষ্ট করে দেয় এবং খাদ্য শস্য ক্রয় করে গুদামজাত করে ও সৈন্যদের প্রয়োজনে বাহিরে পাঠিয়ে দেয়।

৩. জাপান কর্তৃক ব্রহ্মদেশ দখল : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের আরেকটি অন্যতম কারণ হলো জাপান কর্তৃক ব্রহ্মদেশ বা বার্মা দখল। জাপানিরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে হঠাৎ ব্রহ্মদেশ দখল করেন। জাপানি সেনাবাহিনীর হাতে বার্মার পতন হলে  সেখানে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। ব্রহ্মদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বহু উদ্বাস্তু আসার ফলে পরিস্থিতির আর ও অবনতি ঘটে। যার ফলে দুর্ভিক্ষ আর প্রকট আকার ধারণ করে।

৪. খাদ্য গুদামজাত করার প্রবণতা : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের একটি অন্যতম কারণ হলো সেনাবাহিনীর জন্য খাদ্য গুদামজাত। এই খাদ্য গুদামজাত করার ফলে খাদ্য ঘাটতি চরম আকার ধারণ করে। এছাড়া কিছু অসৎ ও অর্থলোভী ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের আশায় খাদ্য গুদামজাত করে । যার ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।

৫. কডনিং প্রথা : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় বাংলায় কর্ডনিং প্রথা প্রচলিত ছিল। এ ব্যবস্থার ফলে সব জায়গায় যানবাহন চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। এক্ষেত্রে খাদ্য শস্য অবাধ চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হয়। পাঞ্জাব সরকার বাংলায় এই দুর্ভিক্ষের সময় গম ও আটা পাঠাতে রাজি থাকলেও কড়িনিং প্রথার কারণে পাঠাতে ব্যর্থ হয়।

৬. সরকারি অব্যবস্থাপনা : সরকারি অব্যবস্থাপনা ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ। তৎকালীন সরকার এ দুর্ভিক্ষের দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এছাড়া সরকারের আমলা ও কর্মকর্তাগণ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথেষ্ট দায়িত্বহীন ও উদাসীন ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার এই দুর্ভিক্ষে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি

৭. কৃষির উৎপাদন কমে যাওয়া : ১৯৩৮ সাল থেকে বাংলায় কৃষির উৎপাদন কমতে থাকে যা ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের জন্য অনেকটা দায়ী। কৃষির উৎপাদন কর্ম হওয়ার কারণে সরকার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়।

৮. খাদ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতা : খাজা নাজিমউদ্দিনের মন্ত্রিসভায় সোহরাওয়ার্দী খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি এ দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য তেমন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তিনি বাংলার অন্যান্য প্রদেশ থেকে খাদ্য সামগ্রী আনতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ।

৯. বিদেশি সাহায্যে গ্রহণ অনীহা : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের আরেকটি অন্যতম কারণ হলো বিদেশি সাহায্যে গ্রহণে অনীহা। এই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া সহায়তার হাত বাড়াতে চেয়েছিল কিন্তু চার্চিলের মন্ত্রিসভা তা মেনে নেয়নি। এমনকি এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের জাহাজে খাদ্য পাঠাতে চেয়েছে । ব্রিটিশ শাসক তাও গ্রহণ করেননি। ১০. অনাবৃষ্টি : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের জন্য অনাবৃষ্টি ও দায়ী ছিল। কারণ এই সময় অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ গঠনে ব্যাপক কমে যায়। যার ফলে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

দেয়া → ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ফলাফল : নিম্নে ১৯৪৩ সালের আনু দুর্ভিক্ষের ফলাফল আলোচনা করা হলো-

১. অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের দুর্ভিে ফলে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছিল। ৩৮ আংি লক্ষ মানুষ অনেক কষ্টে জীবনধারণ করতে থাকে। এছাড়া প্রায় সেখা সাড়ে তিন লাখ পরিবার চরম দারিদ্র সীমার নিচে পড়ে। তারা নিজের যাবতীয় সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

২. রোগব্যাধি : যেকোনো দুর্ভিক্ষের ফলে রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাবে এটা দুর্ভি একটি সাধারণ ঘটনা ঠিক তেমনি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ক্ষেত্রেও একই । এই দুর্ভিক্ষের ফলে মানুষের মধ্যে রোগব্যাধি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব রোগের মধ্যে কলেরা, ডাইরিয়া, বসন্ত ও ম্যালেরিয়া অন্যতম ।

৩. দেশান্তর : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ফলে অনেক মানুষ বাংলা থেকে অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়। ভারতের কলকাতায় বেশি সংখ্যাক মানুষ দেশান্তরিত হয়েছিল।

৪. খাদ্য ঘাটতি : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ফলে ব্যাপক সা খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। অনেকে আবার খাদ্য মজুত করার ফলে সাধারণ মানুষ না খেয়েই মৃত্যুবরণ করেছে।

৫. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ফলে দ্রব্যমূল্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের পক্ষে যেকোনো দ্রব্য ক্রয় করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়া অনেক সময় কোনো জিনিস পাওয়া গেলেও অধিক দামের কারণে মানুষ ক্রয় কর পারেনা।

৬. মৃত্যুহার : ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ৩৫ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ কে করে। এ মৃত্যুর হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের লক্ষ জন্য কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে দায়ী ছিল না। মুসলিম  সরকারের দায়িত্বহীনতা, সেনাবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত খাদ্য মজুত, যার মুনাফা ভোগীদের দৌরত্ম্য ও সরকারের অব্যবস্থাপনা এই দুর্ভিক্ষের সুনি অন্যতম কারণ ছিল। সোহরাওয়ার্দীর খাদ্যশস্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার ফলে বহু লোক অনশন ক্লিস্ট লোক মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা মুসি পায় । ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সূদুরপ্রসারী ।

অথবা, বেঙ্গল প্যাক্টের (১৯২৩) পটভূমি ও গুরুত্ব আলোচনা কর।


উত্তর : ভূমিকা : রাজনৈতিক সংকট নিরসনে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে তাদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, আর এটাই বা এই চুক্তিই ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি নামে পরিচিত। এটা মূলত ১৯২০ সালে অসহযোগ- খিলাফত আন্দোলন ব্যর্থ হলে নতুনভাবে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। আর এ সমস্যা সমাধানের জন্যই মূলত নামে পরিচিত একটা রাজনৈতিক চুক্তি করা হয় আর এটাই বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি

→ বেঙ্গল প্যাক্ট : ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায় যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তখন বেঙ্গল প্যাক্ট তাদের জন্য আশার আলো বয়ে আনে যার নেতৃত্ব দেন চিত্তরঞ্জন দাস। তিনি মুসলমানদের সহযোগিতা লাভের আশায় মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বসেন। তিনি মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে সমঝোতার মনোভাব নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চিত্তরঞ্জন দাসের লক্ষ্য ছিল পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে হিন্দুদের সমকক্ষ করা। আর এ কারণেই তিনি সমঝোতায় আসেন এবং একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত করেন। যা ১৯২৩ সালে স্বাক্ষরিত এ রাজনৈতিক চুক্তিই ঐতিহাসিক বেঙ্গল প্যাক্ট নামে অভিহিত হয়।

→ ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্টের পটভূমি : ব্রিটিশ ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনসমূহের মধ্যে ১৯২০-২১ সালের মহাত্মা গান্ধী এর নেতৃত্বে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সর্বপ্রথম সমর্থন লাভে সক্ষম হয় এবং ব্রিটিশ আমলাতন্ত্রের শক্তি ও প্রশাসনিক যোগ্যতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কতিপয় উগ্রপন্থী ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চৌরিচিরিয়াতে পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দিলে ২২ জন পুলিশ মারা যায়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রতিবছর অন্তর নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ১৯২১ সালের পর ১৯২৩ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, চিত্তরঞ্জন দাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক হয়. কংগ্রেসীরা নির্বাচন আমলাগুলো দখল করে সরকারী নীতির বিরোধিতা করবে। ১৯২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনে চিত্তরঞ্জন দাস ও সুভাস চন্দ্র বসু সভাপতি ও কর্মসচিব নির্বাচিত হন। স্বরাজ পার্টির পক্ষে সমর্থন গোছাতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিত্তরঞ্জন দাস তার মুসলিম সহযোগী বাংলার মৌলভী আব্দুল করিম, মাওলানা আকরাম খা, মনিরুজ্জামান ইসলামবাদী এবং মৌলভী মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন যা ঐতিহাসিক বেঙ্গল প্যাক্টর নামে পরিচিত

 বেঙ্গল প্যাক্টের গুরুত্ব : ১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট ছিল ভারতবর্ষে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব প্রতিষ্ঠার দলিল। এ চুক্তির মাধ্যমে মুসলমানদের প্রতি সদাচারণ ন্যায্য অধিকার এবং ধর্মীয় মনোভাবের প্রতি শ্রদ্ধা র জানানো হয়। আর এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের রেখা মুছে যায় হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে থেকে। চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হওয়ায় স্বরাজ দলের নেতৃত্বে বাংলার জন্য বহু প্রস্তাব পাস এ. অনেক প্রস্তাব বাতিল করা হয়। স্বরাজ দল বাংলার নির্বাচনে ৮৫টি আসনের মধ্যে ৪৭টি আসন লাভ করে। কলকাতা কর্পোরেশনে স্বরাজ দল তিন চতুর্থাংশ আসন দখল করার মাধ্যমে সি.আর. দাস মেয়র এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, বেঙ্গল প্যাক্টের মূল লক্ষ্যই ছিল রাজনৈতিক অবসান ঘটানো এবং হিন্দু ও চা মুসলমানদের মধ্যে থেকে থেকে সাম্প্রদায়িকতা দূর করে  অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরি করা। চিত্তরঞ্জন দাস এর  নিরলস প্রচেষ্টায় যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় তার ফলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে সম্প্রীতি গড়ে উঠে এবং রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয় এবং এর মধ্যে সকল নতুন আশার আলো তৈরি হয় ।

অথবা, বাংলার শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব আলোচনা কর।

অথবা, ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দাও ।

 উত্তর : ভূমিকা : ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশদের শাসনামলের পূর্বে মোগল আমল থেকে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লার পতনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। যেহেতু ব্রিটিশরা মুসলমানদেরকে পরাজিত করে শাসনভার গ্রহণ করেছে। তাই প্রথম থেকেই তারা মুসলমানদেরকে কোণঠাসা করে রেখেছে। মুসলমানদেরকে ব্রিটিশদের কোণঠাসা থেকে উদ্ধার করতে কিছু মুসলিম মনীষী কাজ শুরু করেন। এদেরকে শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলা হতো ।

→ বাংলায় শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান : পলাশি যুদ্ধের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্যদিয়ে ১৭৫৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের পতন ঘটে। ব্রিটিশরা প্রথম থেকে মুসলমানদের কোণঠাসা করে রাখতে শুরু করে। তারা মুসলমানদেরকে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। ব্রিটিশরা মুসলমানদের উপর নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করত। ব্রিটিশদের এসকল অত্যাচার নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য মুসলমানদের মধ্য থেকে কিছু শিক্ষিত মুসলিম মনীষী এগিয়ে আসেন। তাদের মাধ্যমে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি হয় যেটি শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্যতম ব্যক্তিবর্গ ছিলেন স্যার সৈয়দ আমীর আলী খান, নবাব আব্দুল লতিফ, হাজী শরীয়তুল্লাহ, দুদু মিয়া, তিতুমীর প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। তারা কেউ ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের জন্য কাজ করেছেন। আবার কেউ কেউ মুসলমানদেরকে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সচেতন করেছেন।

ব্রিটিশদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করে মুসলমানদের জন্য যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্যার সৈয়দ আমীর আলী খান এবং নবাব আব্দুল লতিফ। তারা মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। মুসলমানদের শিক্ষার জন্য বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষা চালু করেন। মুসলমানদেরকে সচেতন করার লক্ষ্যে আলীগড় আন্দোলন ও মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। অপরদিকে যারা ব্রিটিশদের সাথে বিদ্রোহ করে মুসলমানদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর, দুদু মিয়া, হাজী দানেশ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। তারা ব্রিটিশ বিরোধী যতগুলো আন্দোলন গড়ে তুলেছেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন এবং তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা আন্দোলন। এই আন্দোলনগুলো যদিও ব্রিটিশদের পরাজিত করতে পারেনি, তথাপিও এই আন্দোলনের মাধ্যমে মুসলমানগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদেরকে শামিল করে। এ লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে তারা নিখিল ভারতীয় মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে। এই দলের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত মুসলিম শ্রেণি মুসলমানদের অধিকার আদায় করেন ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় বলা যায় যে, ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মাধ্যমে মুসলমানগণ তাদের পুরানো ঐতিহ্য ফিরে না পেলেও তাদের অধিকার আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ব্রিটিশ ও হিন্দুদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে মুক্তিলাভ করেছিলেন। মুসলমানদের নবজাগরণের ক্ষেত্রে বাংলার শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবদান অনস্বীকার্য ।

অথবা, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কেন হয়েছিল? এর কর পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া আলোচনা কর।


ভূমিকা : ব্রিটিশ ভারত ও বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ১৯০৫ সালে ভারতের যে তৎকালীন বড়লাট লর্ড জর্জ নাথানিয়েল কার্জন বাংলা প্রদেশ অ ভাগ করেন। যা ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। বঙ্গভঙ্গের ফলে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ ও ‘পূর্ববঙ্গ' নামে নতুন দুটি প্রদেশ গঠিত হয়। বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার সমন্বয়ে গঠিত পূর্ববঙ্গের সাথে মালদা পি জেলার চিফ কমিশনার শাসিত আসামের সঙ্গে সংযুক্ত করে পূর্ব সর বাংলা ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। যেটি ইতিহাসে ‘বঙ্গ' নামে পরিচিতি লাভ করে। বঙ্গভঙ্গ ও এর রাজ ” পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবলি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। বঙ্গভঙ্গ ও রদকে কেন্দ্র করে বাংলার প্রধান দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায় হিন্দু ও মুসলমানের দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা ঐক্যের বিপরীতে অনৈক্যের সূত্রপাত ঘটে।

→ বঙ্গভঙ্গ : ১৮৯৮ সালে লর্ড কার্জন ভারতের বড়লাট হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন। লর্ড কার্জনের শাসনকালের মধ্যে শাঁ সর্বাপেক্ষা তাৎপর্যপূর্ণ সংস্কার হলো বঙ্গভঙ্গ। তৎকালে সমগ্র এ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য প্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে ছিল বঙ্গ প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য লর্ড কার্জন ১৯০৩ সালে এই বিরাট প্রদেশকে দুইভাগে বৃদ্ধি ভাগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি উত্তর ও পূর্ব বাংলাকে সর আসামের সাথে সংযুক্ত করে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করেন। দ্বিধ এই নবগঠিত প্রদেশের নামকরণ করেন পূর্ব বাংলা ও আসাম। অপরদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সমন্বয়ে আরেকটি  ব প্রদেশ গঠিত হয়। যার নাম দেওয়া হয় ‘বাংলা প্রদেশ' (Bangla Po Presidency). ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর থেকে বঙ্গভঙ্গ আইন কার্যকর হয় ।   বঙ্গভঙ্গের কারণ : বঙ্গভঙ্গের কারণ বিশ্লেষক ঐতিহাসিকরা দুটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।কর্তাব্যক্তিরা বঙ্গভঙ্গের প্রধান কারণ হিসেবে প্রশাসনিক কারণকে  উল্লেখ করলেও এর পিছনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণও বিদ্যমান । নিচে বঙ্গভঙ্গের কারণগুলো আলোচনা করা হলো : ১. প্রশাসনিক কারণ : ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের উদ্যোগনেয়ার পিছনে প্রশাসনিক কারণ হলো :

(ক) বাংলা প্রদেশের আয়তনের বিশালতা : ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে, বাংলা একটি বিশাল প্রদেশ। বিভক্তির | বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্য প্রদেশ ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে বাংলা প্রদেশ ছিল। এটি ছিল আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় প্রদেশ। এর আয়তন ছিল ১ লক্ষ ৮৯ হাজার . বর্গমাইল এবং ১৯০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এর জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৫০ লক্ষ

একজন গভর্নরের পক্ষে এত বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এজন্য প্রশাসনিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ করা হয়।

(খ) বঙ্গ প্রদেশে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা : পূর্ব বাংলার যোগাযোগ, পুলিশ ও ডাক ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দক্ষিণ

ও পূর্ব বাংলার বিস্তীর্ণ চর ও হাওড়ে প্রতিনিয়ত চুরি, ডাকাতি ও বেআইনি কর্মকাণ্ড হতে থাকে। বাংলাকে এসব অরাজক [ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

২. রাজনৈতিক কারণ : বেশির ভাগ ভারতীয় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে বঙ্গভঙ্গের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বঙ্গভঙ্গের পিছনে যেসব রাজনৈতিক কারণ বিদ্যমান ছিল তা হলো :

(ক) বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ধ্বংস করা : কলকাতা

কেন্দ্রিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত গড়ে উঠে। বিশেষ

করে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে তা আরো  সুদৃঢ় হতে থাকে। ব্রিটিশ সরকার মনে করে জাতীয়তাবাদী এ শক্তিকে নস্যাৎ করে দিতে পারলে বাঙালির শক্তি ক্ষীণ হয়ে যাবে। এই ভেবে সরকার বঙ্গভঙ্গের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ।

(খ) কংগ্রেসকে দুর্বল করা : ১৮৮৫ সালে ভারতীয় কংগ্রেস ✉ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভারতবাসীর মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা  বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক সচেতনতা ব্রিটিশ ক সরকারকে সঙ্কিত করে তুলে এবং বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে কংগ্রেসকে

 দ্বিধাবিভক্ত করে এর শক্তি হ্রাস করে।

(গ) বিভক্ত ও শাসননীতি : বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল

ব্রিটিশ সরকারের বিভক্ত ও শাসননীতি'র (Divide and Rule _a Policy) অন্যতম একটি অংশ। ভারতে ব্রিটিশ রাজশক্তিকে  শক্তিশালী করা ও বাঙালিদের শক্তি ক্ষীণ করার জন্য দুই  বাংলাকে বিভক্ত করা নীতি অবলম্বন করা হয়। 

৩. অর্থনৈতিক কারণ : বঙ্গভঙ্গের পিছনে ব্রিটিশ সরকারের অর্থনৈতিক কারণগুলো নিম্নরূপ :

(ক) অর্থনৈতিক বৈষম্য দুরীভূত করা । অবিভক্ত বাংলা বাংলার রাজধানী হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু কলকাতা কেন্দ্রিক হওয়ায় বাংলা প্রদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে পড়ে। এজন্য । বাংলায় অর্থনৈতিক বিকাশ সাধন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও

অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের জন্য বঙ্গভঙ্গ করা হয়।

(খ) জমিদারদের অত্যাচার থেকে রায়তদের মুক্তি : কলকাতা কেন্দ্রিক আধুনিক সভ্যতার বিকাশ সাধনের ফলে অধিকাংশ জমিদার কলকাতায় বসবাস করা শুরু করে। অনুপস্থিতিতে তাদের নিযুক্ত নায়েব, গোমস্তারা রায়ত তথা প্রজাদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করতো। প্রজাদের উ এমন অত্যাচার থেকে মুক্ত করার জন্য ও তাদের অর্থনৈতিক ব স্বচ্ছলতা আনয়নের জন্য বঙ্গভঙ্গ করা হয়।

৪. সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ : ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে তাদের বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে মুসলমানরা ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রাধান্য হারাতে থাকে। তাছাড়া স্মরণাতীতকাল থেকে পূর্ব বাংলায় মুসলমানদের ও পশ্চিম বাংলায় হিন্দুদের প্রাধান্য বিরাজমান ছিল। এজন্য ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় বিবেচনা করে বঙ্গভঙ্গের জন্য উদ্যোগী হয় ।

→ বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া : ১৯০৫ সালের ঘোষিত বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের ১৯০৫ সালের । ঘোষিত বঙ্গভঙ্গের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে বঙ্গভঙ্গের ফলে হিন্দুদের মধ্যে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে য আলোচনা উপস্থাপন করা হলো-

১. মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দু ও বর্ণ হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া : ও উচ্চ বর্ণের হিন্দুসম্প্রদায় ১৯০৩ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব  প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এর বিরোধিতা শুরু করে।  কলকাতা কেন্দ্রিক সকল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বর্ণের হিন্দুস। বিশেষ করে জমিদার, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও সাংবাদিক সবাই বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। তারা বঙ্গভঙ্গকে জাতীয় সংহতি ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি আঘাত বলে অভিহিত করেন। হিন্দু নেতৃবৃন্দ বাঙালি বিরোধী, জাতীয়তাবাদ বিরোধী ও বঙ্গমাতার বিশেষণে আখ্যায়িত করেন। তারা মনে করেন এর দ্বারা মুসলমানদের প্রধান্য প্রতিষ্ঠিত হবে এজন্য যেকোনো মূল্যে হিন্দু সম্প্রদায় বঙ্গভঙ্গকে রুখে দিতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন এবং তাদের দাবির মুখে ১৯১১ সালে মাত্র ৬ বছরের মাথায় ব্রটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

২. নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের প্রতিক্রিয়া : উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করলেও নিম্নবর্ণের হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। বাংলায় হিন্দুসম্প্রদায়ের মধ্যে নমশূদ্র ছিল সংখ্যা গরিষ্ঠ। হিন্দু ব্রাহ্মণ, বৈশ্য ও কায়স্থদের ঘৃণার ফলে তারা ছিল অনগ্রসর। বর্ণ হিন্দুদের রাজনৈতিক অভিলাষের মধ্যে তারা কোনো স্বার্থ খুঁজে পায়নি। তাই তারা বঙ্গভঙ্গ সমর্থন করে।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, লর্ড কার্জন কর্তৃক ঘোষিত বঙ্গভঙ্গ যেমন মুসলমান সম্প্রদায়কে আনন্দিত করে ঠিক তেমনিভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যাথিত করে তোলে। কারণ বঙ্গভঙ্গের ফলে রাজধানী হিসেবে কলকাতার গুরুত্ব কমে যায় এবং হিন্দুরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরে। অপরদিকে মুসলমানরা আর্থিক স্বচ্ছলতাসহ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠে। নিজেদের দাবি ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য সোচ্চার হয় । বঙ্গভঙ্গ ও এর রদ বাঙালির মধ্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায় এবং স্বতন্ত্র জাতিস্বত্তা হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের আত্মপ্রকাশে বঙ্গভঙ্গ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

ভূমিকা: বাংলাকে বিভক্তিকরণের পেছনে যাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল তারা হলো কংগ্রেস। কারণ তারা প্রথম দিকে সমর্থন দিলেও শেষে নিজেদের স্বার্থে বিরোধিতা করে । অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের ব্যর্থতার কারণ ছিল বহুবিধ। তাছাড়া হিন্দু মুসলিম ছিল আলাদা জাতি। যদিও তাদের মধ্যে সম্প্রীতি বিরাজ করছিল তারপরেও তারা একে অপরের থেকে বিভক্ত হওয়ার চেষ্টা করছিল। ফলে যে অখণ্ড বাংলা গঠনের প্রয়াস চালানো হয়েছিল তা ব্যর্থতায় পর্যবশিত হয়। অখণ্ড বাংলা বিভক্তির সাথে সাথে ভারত পাকিস্তান বিভক্ত হয় এ বিভক্তির কিছু আইনের ভুল ছিল। নিম্নে প্রশ্নানুসারে আলোচনা উপস্থাপন করা হলো ।

→ অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস ব্যর্থতার কারণ : মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের বিরোধিতা বাংলার তৎকালীন নেতৃবৃন্দ যারা অখণ্ড বাংলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন আর তাদের এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো :

১. কংগ্রেসের বিরোধিতা : কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সাধারণ নেতৃবৃন্দ অখণ্ড বাংলাকে সমর্থন দিলেও কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের হাইকমাণ্ড অখণ্ড বাংলাকে কখনোই সমর্থন করেননি। সংগঠন দুটির বাংলা শাখায় যারা কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের অনুসারী ছিলেন তারা প্রথম দিকে অখণ্ড বাংলার দাবি সমর্থন করলেও শেষাবধি হাইকমান্ডের ভয়ে এর চরম বিরোধিতা করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, বাংলা মুসলিম লীগের অন্যতম নেতা মাওলানা আকরাম খাঁ এক পর্যায়ে হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন যে, কেবলমাত্র বাংলার মুসলমানদের লাশের উপর দিয়েই বাংলা ভাগ হতে পারে, অথচ তিনিই পরবর্তীতে এর চরম বিরোধিতা করেন।

২. হিন্দু বিরোধিতা : দীর্ঘ ১০ বছর ধরে হিন্দুদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বাংলার ক্ষমতায় আধিষ্ঠিত ছিল মুসলমান সরকার। যার কারণে বাংলার অপর হিন্দু শ্রেণি হিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠেন। আর সে সময় তাদের ভিতর একটি কঠিন ভীতি কাজ করে যে তারা কখনোই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আর তারা ভাবে অখণ্ড বাংলা হলে মুসলমানদের একক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে আর তারা এইরূপ ধারণা করেই অখণ্ড বাংলাকে সমর্থন দান হতে বিরত থাকে। কলকাতার সম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও দূরত্ব সৃষ্টি করে ।

৩. পৃথক কাঠামোগত কারণ : বাংলায় হিন্দু ও মুসলমান বসতি এমনভাবে গড়ে উঠেছিল যে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং পশ্চিম বাংলায় হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই বাংলার মুসলমানরা মনে করেছিল যদি অখণ্ড বাংলা গঠন করা হয় তাহলে বাংলার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করবে হিন্দুরা। আবার হিন্দুরা মনে করেছিল যদি বাংলার অখণ্ডতা বজায় থাকে তাহলে মুসলমানরা বাংলার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে। তাই উভয় সম্প্রদায় চাচ্ছিল বাংলা বিভক্ত হবে। তাছাড়া স্বভাবতই যেন এটা প্রাকৃতিকভাবেই বিভক্ত হয়েছিল। বাংলার সকল কল কারখানা এবং কলকাতা

ইতিহাস- ইজি মাস অন শহর পশ্চিম বাংলার সীমানায় ছিল। স্বভাবতই পশ্চিম বাংলা বিভক্ত হলে পশ্চিম বাংলার ক্ষতি ছিল না, বরং সেখানে হিন্দুদের পক্ষে চিরকাল প্রাদেশিক সরকার গঠন সম্ভবপর সুতরাং হিন্দুরা বাংলা বিভক্তির পক্ষে কথা বলেন। তাই বাংলার নেতারা বিশেষ করে পূর্ব বাংলার নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

৪. সীমিত সময় : অখণ্ড বাংলা গঠনে যে পরিকল্পনা করা হয় তা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সময়ের স্বল্পতা। অখণ্ড বাংলার বিষয় ছিল আলোচনা শুরু হয় ১৯৪৭ সালে। আবার ১৯৪৭ সালের এপ্রিলেই অখণ্ড বাংলার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। আবার এর কিছু দিন পরই ঘটে দেশ বিভাজন। স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান বিভক্তি চূড়ান্ত হয়। সুতরাং তা বাস্তবায়নের জন্য এত কঠিন সময়ে দুই বা তিন মাস যথেষ্ট ছিল না। কারণ তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতার বিষয়টি ছিল। আর সে সময় তাদের মধ্যে বিরাট কলহ কাজ করছিল। আবার সিলেটের মতো বাংলা বিভক্তির প্রশ্নে গণভোট করা যেত কিন্তু সময়টা এতোই কঠিন ছিল যে সেটাও বাস্তবায়নের কোনো সময়ই হাতে ছিল না।

৫. উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব : সেই সময় বাংলায় তেমন কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের হাইকমান্ডে বাংলার উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ফলে পশ্চিমা মুসলমান ও উত্তর ভারতের হিন্দু নেতৃত্ব তাদের নিজ নিজ স্বার্থে বাংলা বিভাগের বিষয়াদি বিবেচনা করেন। বৃহত্তর স্বাধীন বাংলা ভারতের হিন্দু পুঁজিপতি গোষ্ঠীর জন্য মাথাব্যথার কারণ ছিল। কলকাতা ছিল হিন্দু পুঁজিপতি গোষ্ঠীর নাভীকেন্দ্র। গোটা বাংলা ও সারা ভারতের পুঁজি সংগঠক হিসাবে ইঙ্গ-মার্কিন ও মাড়োয়ারী গোষ্ঠী বিরামহীন গতিতে কাজ করেছে তৎকালীন কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে । সুতরাং বাংলা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে ইঙ্গ-মার্কিন ও মাড়োয়ারী পুঁজি বাঙালিদের হাতে যাবে এটা প্রায় নিশ্চিতভাবে অবাঙালি দেশি বিদেশি পুঁজি সংগঠকেরা বুঝতে পারেন এবং সে কারণেই তারা বাংলাকে ভারতের দুই অংশকে পরাধীন ভূমিতে রূপান্তর করার ষড়যন্ত্র করে।

৬. পূর্ব বাংলার প্রতি চক্রান্ত : অপরপক্ষে মুসলিম লীগের পশ্চিমা নেতৃবৃন্দ মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববাংলাকে উপনিবেশ হিসাবে শোষণ করার উদ্দেশ্যে ঐ এলাকার পাকিস্তানের অংশ হিসেবে চেয়েছিলেন। তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্যকে সহযোগিতা ত করেন পূর্ববাংলার খাজা নাজিম উদ্দিন, নুরুল আমিন, মাওলানা আকরাম খাঁ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এরা ভালো করেই জানতেন যে

অবিভক্ত বাংলা হলে তাদের পক্ষে সোহরাওয়ার্দী গ্রুপকে ডিঙিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার অসম্ভব তাই তারা কেবলমাত্র ক্ষমতার লোভেই খণ্ডিত পূর্ব বাংলাকে স্বাগত জানান ।

→ ভারত স্বাধীনতা আইনের ত্রুটি : ভারত শাসন আইনে কতকগুলো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে তা দেওয়া হলো :

১. ব্রিটিশরা ভারতবর্ষকে কেবল দ্বি-খণ্ডিত করেই যায়নি, অনেক রাজনৈতিক বিষয় তারা অমিমাংসিত রেখে গেছে। ব্রিটিশ আমলে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করেছে এমন দেশীয় রাজ্যসমূহ স্বাধীন হবে, না ভারত বা পাকিস্তান স্থানভুক্ত হবে সে বিষয়ে ভারতীয় স্বাধীনতা আইনে কোনো স্পষ্ট নির্দেশ না থাকার সুযোগে ভারত শক্তি বলে কিছু দেশীয় রাজ্য দখল করে নেয় এবং কিছু রাজ্যকে ভারতে যোগদান করতে বাধ্য করেন। যেমন কাশ্মীর একটি দেশীয় রাজ্য ছিল। কাশ্মীরের দখল নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৮ এবং ১৯৬৫ সালে যুদ্ধ হয় ।

২. ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পদ বণ্টন বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না। পরবর্তীতে পাকিস্ত ান ও ভারতের মধ্যে তিক্ত সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। অবশ্য এসব আইনে ত্রুটি সত্ত্বেও ভারত স্বাধীনতা আইনকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাসকৃত আইনসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম উত্তম আইন বলে গণ্য করা হয়। এই আইন ভারত ও পাকিস্তানের সাংবিধানিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ।

ভারতীয় স্বাধীনতা আইন বিলটি পাসের পরদিন দিলিস্থ 1 অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বিধা বিভক্ত হয়ে এক অংশ পাকিস্তানের এবং অপর অংশ ভারতের সরকারে পরিণত হয়। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তান ডোমিনিয়নের প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন করাচিতে উপস্থিত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, অখণ্ড বাংলা গঠনের ব্যর্থ হওয়ার পেছনে যতগুলো কারণ ছিল এর মধ্যে অন্যতম হলো নেতাদের ক্ষমতার লোভ। সাম্প্রদায়িক মনোভাব এবং –ত দলীয় সংকীর্ণতা। ব্রিটিশ সরকার ভেবেছিল, যদি বাংলাকে  অভিন্ন রাখা হয় তাহলে তারা আর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। ভারতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ পর তাদের চিন্তা ছিল যদি তারা অভিন্ন বাংলাকে সমর্থন দেয় তাহলে শ বাংলার রাজনীতিতে তাদের অবস্থান হ্রাস পাবে। কেননা তারা  হিন্দু প্রীতি রাজনীতিতে লিপ্ত ছিল।

The National University of Bangladesh's all-books and notice portal, nulibrary.com, offers all different sorts of news/notice updates.

You may find almost every type of National University information here, including NU news, NU admissions information, NU results, and NU exam schedules.
Our goal is to aid NU students by offering information.
© Copyright 2022 - aowlad - All Rights Reserved
magnifierchevron-down linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram